লকডাউন লঙ্ঘনের দায়ে আটক বৈধ শ্রমিকদের দেশ ত্যাগের নির্দেশ! ইমিগ্রেশন প্রধান

মালয়েশিয়ার একজন আইনজীবী ইমিগ্রেশন বিভাগকে কোভিড-১৯  প্রতিরোধে চলমান মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার এম'সিও বা লকডাউন লঙ্ঘনের দায়ে দণ্ডিত নথিভুক্ত বা বৈধ বিদেশী কর্মীদের নিজ দেশে ফেরত না পাঠিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আইনজীবী বালাকৃষ্ণ বালারাভি বলেছিলেন, এম'সি'ও লঙ্ঘনের দায়ে আটককৃতদের

অপরাধী গন্য করা হবেনা এবং  বৈধ শ্রমিকদের দেশে পাঠিয়ে দেয়া মত অপরাধ নয়। তিনি বলেন, আসলে, এমসিও লঙ্ঘনের জন্য কাউকে গ্রেপ্তার করা উচিত নয়, কারণ এটি নিছক একটি সমন অপরাধ। বালাকৃষ্ণ মালয়েশিয়ার অন্যতম সংবাদ মাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে'কে (FMT) বলেছিলেন যে বিদেশী কর্মীদের উপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এস'এম'ই) বা স্বল্প বিনিয়োগের কোম্পানিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে যদি তাদের পাঠিয়ে দেয়া হয়। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে

 এমনকি দেশটির  পুলিশ প্রধান জনাব আবদুল হামিদ বদর গত সপ্তাহে বলেছিলেন যে, এমসিও বা লকডাউন লঙ্ঘনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছে যারা তাদের নাম অপরাধী হিসেবে রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করা হবে না। বালাকৃষ্ণ বলেছিলেন যে তিনি ইপো অঞ্চলের মেনলেম্বুতে কারাখানায় কর্মরত চারজন বাংলাদেশি শ্রমিকের পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন, যারা এমসিও ভঙ্গ করার দায়ে গত ৩০ শে মার্চ গ্রেপ্তার হয়েছিল।  তিনি বলেন ২রা এপ্রিল তাদের আদালতে অভিযুক্ত করা হয়েছিল এবং জামিনযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও জামিন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ৩০ এপ্রিল হাইকোর্টে একটি সংশোধিত আবেদনের পরে এই চারজনকে আবারও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়েছে। যেহেতু তারা ৩১ দিনের রিমান্ডে ছিল, তাই তারা দোষী সাব্যস্ত করে এবং গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে এক মাসের জেল হয়।

আদালতে তাদের মুক্তি দেয়া হলে শ্রমিকদের তাদের কোম্পানির কাছে ফিরিয়ে না দিয়ে ইমিগ্রেশন বিভাগের লাংকাপ ডিটেনশন ক্যাম্পে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, “একজন অফিসার আমাকে জানিয়েছিলেন যে এমসিও লঙ্ঘনের দায়ে দণ্ডিত সকলকেই দেশত্যাগের জন্য ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক নির্দেশ দিয়েছেন।

বালাকৃষ্ণ বলেছিলেন যে তিনি ইমিগ্রেশন ডিরেক্টর-জেনারেল এবং রাজ্য পরিচালককে চিঠি দিয়েছেন এবং এই বিষয়ে তাদের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশিদের যদি আটক থেকে মুক্তি না দেওয়া হয় তবে আমরা আইনী প্রতিকার চাইব।

গত ২১ শে এপ্রিল, ঐ গণমাধ্যমে আরও প্রকাশ করা হয়েছিল যে, লকডাউন লঙ্ঘন করার দায়ে ৪১ জন মিয়ানমার নাগরিককে তাদের শ্রমিকদের হোস্টেল প্রাঙ্গণে সংক্রান উৎসব উদযাপন করার জন্য প্রত্যেককে ১০০০ রিঙ্গিত করে জরিমানা করা হয়েছিল এবং পরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আটককৃত সকল বিদেশি শ্রমিকেরা তাদের অপরাধ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আইন অনুযায়ী তাদের সর্বোচ্চ ১ হাজার রিঙ্গিত বা ৬ মাসের জেল অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে।

এই নিউজ গুলোও পড়তে পারেন
👇
মালয়েশিয়াতে অবৈধদের জরিমানা ও ব্ল্যাকলিস্ট ছাড়াই দেশে যাওয়ার সুযোগ ঘোষণা। বিস্তারিত

👇মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশনের নতুন ফাঁদ, পালানোর পথ নেই অবৈধদের। বিস্তারিত পড়ুন।
👇
মালয়েশিয়ায় কাজ করতে হলে করোনা টেস্ট বাধ্যতামূলক,খরচ দিতে হবে মালিকদের। বিপাকে পড়বে প্রবাসীরা। পড়ুন বিস্তারিত। 
👍
মালয়েশিয়ার প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর এবং ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত আরও তথ্য জানতে অভিবাসী কন্ঠ পেইজের সাথেই থাকুন 
https://www.facebook.com/ovibashi/

No comments

Theme images by Dizzo. Powered by Blogger.