এবার অবৈধদের পক্ষে মালয়েশিয়ার আইনজীবী সমিতি। আটক না করে সাধারণ ক্ষমা বা বৈধতার আহ্বান।

মালয়েশিয়ার বার কাউন্সিল আশা করেছে যে মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার (এমসিও) বা লকডাউন চলাকালীন সময়ে কয়েকশত গ্রেপ্তারকৃত সকল অবৈধ বা আনডকুমেন্টেড কর্মীদের যত্ন ও কোভিড-১৯ টেস্ট নিশ্চিত করেবে।মালয়েশিয়ার আইনজীবী সমিতির সভাপতি সেলিম বশির ভাস্করান বলেছেন, তাদেরকে ডিটেনশন ক্যাম্প গুলোতে রাখা কেবল কোভিড-১৯ এর সংক্রমণের সম্ভাবনা আরও

বাড়িয়ে তুলবে কারণ ডিটেনশন ক্যাম্প গুলোর পরিবেশে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে৷ অভিবাসী শ্রমিকদের ডিটেনশন ক্যাম্প গুলোর পরিবেশ অত্যন্ত জনাকীর্ণ ও একটি সেলে অনেকজন একসাথে থাকে। মালয়েশিয়ার বার কাউন্সিল সরকারকে বলছে যে বর্তমানে শুরু হওয়া ধড়-পাকড় অভিযান বন্ধ করার বিষয়ে বিবেচনা করতে এবং কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ হ্রাস করার মাধ্যমে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার জন্য পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে মনোনিবেশ করতে। দেশের সকল অবৈধ বা

আনডকুমেন্টেড অভিবাসীরা আগে বৈধ থাকাকালীন সময়ে যেসব সুবিধা চিকিৎসা, সামাজিক সম্মান, ভয়ভীতি ছাড়াই তাদের সুচিকিৎসার সুযোগ দেয়া উচিত হবে। দেশের এ পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত তাদের প্রতি নমনীয় হওয়া। তারা অবৈধ বা আনডকুমেন্টেড হিসেবে অবহেলার চোখে না দেখে কোভিড-১৯ এর টেস্ট নিশ্চিত করা উচিত হবে৷ অবৈধ অভিবাসীদের মাধ্যমে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণের হার বেশি হয়ে যাওয়ার ফলে সরকার গত ৩ দিন ধরে কুয়ালালামপুরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ১ হাজারের কাছাকাছি বিদেশী আটক হয়েছে।

পুলিশ মহাপরিদর্শক তান শ্রী আবদুল হামিদ বদর শনিবার বলেছিলেন যে রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশ (PDRM), ইমিগ্রেশন বিভাগ (JIM), মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী (ATM) এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় (MOH) এর যৌথ অভিযানে গ্রেফতারের মাধ্যমে তাদের দ্বারা অন্য কোথাও এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়বেনা সেটা নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেছিলেন যে, অবৈধ অভিবাসীদের যদি গ্রেফতার এখনই করা না হয় পরে তাদের মাধ্যমে অন্য কোন এলাকায় ভাইরাস ছড়িয়ে গেলে তাদের খুজে বের করাও অসম্ভব কারণ তাদের কাওন ডাটা আমাদের কাছে নেই৷ উল্লেখ্য যে এর আগে পেতালিং জায়ার তাবলীগ জামাত থেকে পালিয়ে যাওয়া কিছু সংখ্যক অবৈধদের বাধ্যমে এমনটা হয়েছিল। যাদের টেস্ট করার আহ্বান জানানো হলেও ভয়ে তারা টেস্ট করতে আসেনি।

এদিকে আইনজীবী সমিতি এর বিপরীতে দুশ্চিন্তা করছে যে অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলেও তারা ভয়ে চিকিৎসা নিত্ব আসবেনা, কারো দ্বারস্থ হবেনা। কারণ তারা আনডকুমেন্টেড, তাদের বৈধ কোন কাগজপত্র নেই। চিকিৎসা সেবা নেয়ার সুযোগ নেই। গ্রেফতার আতংকে তারা লুকিয়ে থাকবে। তবে তিনি এই সমস্যাটির আরও টেকসই সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন যার মধ্যে সাধারণ ক্ষমার সুযোগ এবং তাদেরকে  বৈধ হওয়ার বা ডকুমেন্টেড হওয়ার কর্মসূচি আওতায় আনা উচিত। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী সরকারের বিবেচনা করা উচিত যে কোন সিদ্ধান্তটি দেশের তথ্য সবার জন্য মঙ্গল হবে।

এদিকে একই বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও মালয়েশিয়ার স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা তেনাগানিতা সহ বেশির ভাগ সংস্থা গুলোর তরফ থেকে বারবার একই দাবী জানানো হয়েছে।

এই নিউজ গুলোও পড়তে পারেন

মালয়েশিয়াতে অবৈধদের জরিমানা ও ব্ল্যাকলিস্ট ছাড়াই দেশে যাওয়ার সুযোগ ঘোষণা। বিস্তারিত


মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশনের নতুন ফাঁদ, পালানোর পথ নেই অবৈধদের। বিস্তারিত পড়ুন।

মালয়েশিয়াতে থাকা অবৈধদের খুঁজে বের করতে গনহারে অভিযান চলছেঃ পুলিশ প্রধান, আব্দুল হামিদ বদর।


মালয়েশিয়ার প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর এবং ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত আরও তথ্য জানতে অভিবাসী কন্ঠ পেইজের সাথেই থাকুন 
https://www.facebook.com/ovibashi/

No comments

Theme images by Dizzo. Powered by Blogger.