অবৈধদের গ্রেফতার করে আগে আমাদের দেশকে রক্ষা করতে হবে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, মালয়েশিয়া।

মালয়েশিয়ার বর্তমান সময়ে আলোচিত মন্ত্রীদের মধ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত সিনিয়র মন্ত্রী দাতুশ্রী ইসমাইল সাবরি ইয়াকুব অন্যতম একজন। পুরো লকডাউন সময়ে জুড়ে দেশ রক্ষাকারী মন্ত্রী হিসেবে লাইম লাইটে রয়েছেন তিনি। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকির মাধ্যমে সাংবাদিকদের সামনে সকল আপডেট তুলে ধরেন৷ গত ২ দিনে কুয়ালালামপুরের কয়েকটি


চিহ্নিত জায়গায় অভিযান চালিয়ে প্রায় বিপুলসংখ্যক অবৈধ
অভিবাসী গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানের প্রথম দিনে সিটি ওয়ান প্লাজা ও চৌকিট এলাকায় ইমিগ্রেশন ও যৌথ বাহিনীর অভিযানে ৬৮৬ জন অবৈধ কর্মীকে আটক করা হয়েছে।  গতকাল আবারও সিটি ওয়ান প্লাজার কাছাকাছি জালান মসজিদ ইন্ডিয়ার মালায়ন ম্যানশন এবং সেলাঙ্গর ম্যানশন ভবিনে অভিযান চালিয়ে সকল অবৈধদে ছেঁকে বের করা হয়। তবে গতকাল ঠিক কতজন আটক করা হয়েছে তা

নিশ্চিত করে বলা হয়নি। করোনা পরিস্থিতিতে এসব গ্রেফতার অভিযান মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে দাবি করছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাসহ স্থানীয় এনজিও ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো৷ তবে ইসমাইল সাবরি ইয়াকুব মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন।  তিনি বলেছে,  যদি অবৈধ ব্যক্তিদের কোন ব্যবস্থা না নিয়েই মুক্তি দেওয়া হয় তবে তারা ভবিষ্যতে আবারও কোন ভ্রমন নথি ছাড়াই অবৈধ পথে মালয়েশিয়ায় আবারও প্রবেশ করবে। শাস্তি না দেয়া হলে এমন কাজে তারা আবারও উৎসাহিত হতে পারে।

তিনি গতকাল (রবিবার ৩রা মে) মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে বলেছেন যে দেশকে অবৈধ অভিবাসীদের থেকে রক্ষা করা সরকারের কর্তব্য রয়েছে। গত শুক্রবার (১লা মে) এবং গতকাল রবিবার (৩রা মে) কুয়ালালামপুর ইমিগ্রেশন বিভাগের অভিযানে কয়েকশত শ্রমিককে গ্রেফতারের কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে।

ইসমাইল সাবরি জানান, জালান মসজিদ ইন্ডিয়ার আশে পাশের ভবনগুলোতে কড়াকড়ি নিরাপত্তা বেষ্টনীর মাধ্যমে কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলার পর থেকে সেখানে বসবাসকারী লোকজনকে ৩ বার করোনা টেস্ট করে ভাইরাসের সংক্রমণ পরীক্ষা করা হয়েছে যারা আক্রান্ত তাদের আলাদা করা হয়েছে আরা আর যারা সুস্থ তাদের মধ্যে থেকে অবৈধ বা আনডকুমেন্টেড কর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এই এলাকা থেকে বর্ধিত নিরাপত্তা বেষ্টনী ও কাঁটা তারের বেড়া শীঘ্রই তুকে ফেলা হবে।

তবে অবৈধদের গ্রেফতারের মাধ্যমে আমরা যা করেছি দেশের আইন অনুযায়ী করেছি। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকেও আমাদের আইনকে সম্মান করা দরকার।
একটি সার্বভৌম দেশ হিসাবে, আমাদের দেশ ও জনগণকে রক্ষা করার ক্ষমতা আমাদের রয়েছে। তিনি মানবাধিকার সংস্থাটিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, আপনার মতামতের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ, তবে এসব সিদ্ধান্ত আমাদের দেশের আইন অনুযায়ী নেয়া হয়েছে যা সাংবিধানিকভাবে আমাদের অধিকার ও দায়িত্ব।

 ইসমাইল বলেছেন, পুত্রজায়া সম্প্রতি ঘোষণা করেছিলেন যে তারা জালান টিকুস বা ইঁদুরের মত প্রবেশ ঠেকানোর জন্য সীমান্ত এলাকাগুলোতে কঠোর পাহারা ও শক্তিশালী নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেছিলেন যে ইমিগ্রেশন বিভাগ দেশের আইন অনুসারে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে এবং ইমিগ্রেশন ক্যাম্পগুলোতে  স্থান সংকুলান পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুলিশ একাডেমিতে নতুন 11 টি বিশেষ  জেলখানা প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, ইমিগ্রেশন ডিপোগুলোতে সামাজিক দূরত্ব পালন করা দরকার।

 গত ৩০ এপ্রিলে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে ইএমসিও বা বর্ধিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোভিড-১৯ এর বিস্তার কমিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নেয়া হয়েছিল অবৈধ বা অনিবন্ধিত অভিবাসীদের জড়ো করে গ্রেফতারের উদ্দেশ্য নয়। এটি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এক বিদ্বেষমূলক সিদ্ধান্ত, কারণ লোকজনকে আটকে রেখে তাদের ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে বলে জানায় সংস্থা টি।  মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে অভিবাসীদের রাখার পরিবেশ অত্যন্ত খারাপ এবং নিম্নমানের।

বিশ্বব্যাপী চলমান মহামারীর পরিস্থিতিতে, জনাকীর্ণ ও নোংরা আটক কেন্দ্র এবং তথাকথিত বিশেষ কারাগারগুলিতে অনিবন্ধিত অভিবাসীদের স্থাপন কেবল কোভিড -১৯ সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলবে।

গতকাল, ইসমাইল সাবরি ইয়াকুব সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, ইমিগ্রেশন বিভাগ ৩,৩৫২ জন অভিবাসীকে চেক  করেছে এবং বৈধ কাগজপত্র বিহীন ৫৮৬ জনকে আটক করেছে।

No comments

Theme images by Dizzo. Powered by Blogger.