বাংলাদেশী শ্রমিকদের এই ছবিটি পুরো মালয়েশিয়াতে ব্যাপক প্রশংসায় ভাসছে। বিস্তারিত পড়ুন

 করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আক্রান্ত অন্যান্য দেশের মতো মালয়েশিয়াতেও টানা লকডাউন চলছে। মালয়েশিয়া সরকার একের পর এক  মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার বা লকডাউন ঘোষণা করে যাচ্ছে যা যা প্রতি দুই সপ্তাহ করে চতুর্থ ধাপে ঘোষণা করা হয়েছে অর্থাৎ টানা দুই মাসের  লকডাউন চলছে মালয়েশিয়াতে।


অন্যান্য দেশের চেয়ে মালয়েশিয়াতে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকলেও আক্রান্তের সংখ্যা ১০ এর নিচে নেমে না আসা পর্যন্ত মালয়েশিয়া সরকার লকডাউন শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিবেনা।
Photo Source: berita harian online

মালয়েশিয়াতে বিদেশি শ্রমিক হিসেবে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশী কর্মীদের ব্যাপক প্রশংসা রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশিদের বিভিন্ন অপকর্মের রেকর্ড থাকলেও বেশিরভাগেই বাংলাদেশী কর্মীরা বেশ প্রশংসিত। মুসলমান দেশ হিসেবে বাংলাদেশের মানুষ স্বভাবতই ধর্মপ্রাণ।
মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার বা গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে মালয়েশিয়ার মসজিদ গুলোতে যখন জামাত ভিত্তিক নামাজ বন্ধ করে দেয়া

 হয়েছিলো।  তখন মালয়েশিয়ার জোহর প্রদেশের মুয়ার জেলার একটি ফার্নিচার কারখানায় কর্মরত একদল বাংলাদেশী ও অন্যান্য দেশের মুসলমান কর্মীরা জুমার নামাজ পড়ার জন্য লকডাউন আইন লংঘন করে। যেখানে প্রায় ১০০ এর বেশি বাংলাদেশী অংশগ্রহণ করেছিলো। ঘটনার দিন তাদের গ্রেফতার করে জরিমানা করা হয়েছিল।
এই ঘটনাটির কারণে মালয়েশিয়ান নাগরিকেরা প্রচুর সমালোচনা করেছিল, লকডাউন আইন ভেঙে এই ধরনের কাজ করার বিরুদ্ধে নানা ধরনের মন্তব্য করেছিলেন নেটিজেনরা।

তবে এবার বাংলাদেশের কর্মীদের নামাজ পড়ার আরেকটি দৃশ্য বেশ প্রশংসিত হয়েছে মালয়েশিয়াতে। পুরো মালয়েশিয়ার জনগণ এই ছবিটি দেখে নানা ধরনের ইতিবাচক মন্তব্য করছেন এবং বাংলাদেশী নির্মাণ শ্রমিক দের দারুণ প্রশংসা করছেন। গতকাল মালয়েশিয়ার গণমাধ্যম বেরিতা হারিয়ান অনলাইনে  ছবিটি প্রকাশিত হলে মালয়েশিয়ার নাগরিকগণ বিভিন্ন ধরনের প্রশংসা মূলক কমেন্ট করতে থাকেন।

এই ছবিটি ইতিমধ্যেই মালয়েশিয়াতে ভাইরাল হয়েছে ছবিটি দেখা যাচ্ছে কয়েকজন বাংলাদেশি নির্মাণ শ্রমিক নির্মাণ প্রকল্পের পাশে ব্রিজের নিচে সন্ধ্যার পর নিজেদের মধ্যে জামাত তৈরি করে তারাবির নামাজ আদায় করছিলেন ঠিক সেই মুহূর্তে ছবিটি তুলে ফেসবুকে দেয়ার পর সবাই প্রশংসা করতে থাকে। কারন ছবিটিতে লকডাউন আইন ভঙ্গ হওয়ার কিছুই চোখে পড়েনি।

 স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘোষিত নির্দিষ্ট সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে তারা নামাজ আদায় করছিলো। তবে সেটা একদিকে যেমন আনন্দের অন্য দিকে খুবই মর্মস্পর্শী কারণ তারা নির্মান কর্মী বলেই নামাজ পড়ার ভালো কোন জায়গা না পেয়ে ব্রীজের নিচে এসে নামাজ পড়তে দাঁড়িয়েছে।

No comments

Theme images by Dizzo. Powered by Blogger.