মালয়েশিয়াতে সবাই যেন বেতন পায় ও কেউ যেন চাকরি না হারায় - প্রধানমন্ত্রী মহিউদ্দিন ইয়াসিন

গতকাল টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে যেসব কথা বলেছিলেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো তুলে ধরা হলঃ-

★এম'সি'ওর কারণে অর্থনৈতিক প্রভাবে প্রতি দিন যেহেতু আমাদের বড় ব্যবসা স্থগিত হয়, তাতে আমরা 2.4 বিলিয়ন রিঙ্গিত এর ক্ষতির মুখে পড়ি।

★ এম'সি'ওর  যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়াই চালিয়ে যাযই তবে আমরা 6 দশকেরও বেশি সময় ধরে যে অর্থনীতির পরিবেশ তৈরি করেছি তা ভেঙে পড়বে।

 ★ আমরা যে পদক্ষেপ নিয়েছি তাতে এক মাস বিলম্ব হলে আমাদের পুরো অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে।

★ ২৬০ বিলিয়ন রিঙ্গিত অর্থনৈতিক প্রনোদনামূলক প্যাকেজটি আমাদের অর্থনীতি রক্ষার প্রতি লক্ষ্য করে করা হয়েছে।

★ আমার অগ্রাধিকার হল যাতে কেউ যেন চাকরি না হারায় বা এর প্রভাবে বেকার না হয়ে পড়ে। সকলের কাজের ক্ষতি যে না হয় তা নিশ্চিত করা।
সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হবে যাতে একজনও চাকরিবিহীন না থাকে।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন যে, আমরা ধীরে ধীরে দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আবার সচল করার উদ্যোগ নিয়েছি, লকডাউন চলাকালীন সময়ে পর্যায়ক্রমে অর্থনৈতিক কার্যক্রম আবার শুরু করেছি। কোম্পানি মালিকগণ যাতে কর্মীদের মজুরি প্রদান করতে পারে সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন ভর্তুকি সহ প্রনোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।  বিভিন্ন কোম্পানি এবং শিল্প কারখানার কর্মীদের মজুরির ক্ষেত্রে ভর্তুকির মাধ্যমে সহায়তা করা এবং

 কোম্পানিদের বিভিন্ন ধরনের আর্থিক ঋন পরিশোধ বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, আমার অগ্রাধিকার হচ্ছে কোন কর্মী যেন কর্মহীন অবস্থায় না থাকে এবং দুঃসময়েও তারা যেন তাদের প্রাপ্ত মজুরি পায়। দেশের নিম্ন আয়ের লোকজনের জন্য আলাদাভাবে প্রনোদনা প্যাকেজ এবং মাঝারি আয়ের লোকজন ও ব্যবসায়ীদের জন্য আলাদাভাবে প্রনোদনা ঘোষণা করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের বিস্তার রোধ করার জন্য দেশব্যাপী মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার (এম'সি'ও) বা লকডাউন বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে এটি একটি কঠোর সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তান শ্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর হিসেবে শপথ  নেওয়ার ১৭ দিনের মাথায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া এতটা সহজ কাজ ছিল না তবে মালয়েশিয়ার জনগণের সুস্বাস্থ্যের কথা ও সুরক্ষার জন্য নেওয়া দরকার ছিল।

আমরা সবাই জানি যে, এটি এই ভাইরাস অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং জীবন-হুমকীপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে এবং আমাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সিদ্ধান্তটি নেয়া উচিত ছিল কারণ একটি দিনের বিলম্বের ফলে বহু মানুষের উপর বিশাল প্রভাব পড়বে।

 অতএব, COVID-19 মহামারী ছড়িয়ে পড়া রোধ করার উপায় হিসাবে এম'সি'ও ঘোষণার মত এমন সিদ্ধান্ত আমরা এর আগে কখনও নেইনি এবং আমরা কেবল মালয়েশিয়াই নয়, সারা বিশ্বেই একই পন্থা অবলম্বন করতে দেখা যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
আরটিএম, অ্যাস্ট্রো আওয়ানি, টিভি 3 এবং বার্নামা টিভিতে প্রচারিত বিশেষ সাক্ষাত্কারে তিনি এসব কথা বলেছেন।

 মুহিউদ্দিন বলেছেন, ১৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই পদক্ষেপটি এখন আরও ফলপ্রসূ হয়েছে কারণ এটি কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধে সিদ্ধান্তটি ভাল অগ্রগতি দেখিয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এর পাশাপাশি এম'সি'ও কার্যকর সফল হওয়া কারনে আমরা দ্রুত ভাল অবস্থানে আসতে পেরেছি।

তিনি আরও বলেন,  স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং সিস্টেম (SOP) মেনে চলার মাধ্যমে লোকজন সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা এবং কিছুক্ষণ পর পর নিজেদের হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে নতুন আরেকটা সাধারণ জীবন যাপনের অভ্যাস গড়ে তুলবো যেখানে সামাজিকভাবে কেউ কারো কাছে আসবেনা, কেউ গনজমায়েত সৃষ্টি করবেনা।

তান শ্রী মুহিউদ্দিন, যিনি একজন ক্যান্সার যোদ্ধা, এই সংকটময় সময়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালনে এখনও স্বাস্থ্যগত দিক দিয়ে সবল ও শক্তি সামর্থ দেওয়ার কৃতজ্ঞতা আল্লাহর নিকট প্রকাশ করেছেন। আমি উদ্বিগ্ন নই, কেউ কেউ আমাকে এই সম্ভাবনা সম্পর্কে সাবধান হওয়ার জন্য সতর্ক করে দিচ্ছেন যে আমার প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্যদের চেয়ে বেশি না তবে কৃতজ্ঞতা জানাই যে, আমি আমার কাজটি করতে পেরেছি এবং আমি কোন কারণেই বিচলিত হতে পারি না।  দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কখনও এই ধরনের সমস্যা অনুভব করিনি।

 প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তাঁর বক্তব্যে আরও স্বাচ্ছন্দ পদ্ধতির বিষয়ে জানতে চাইলে মহিউদ্দিন বলেন, এটি নিশ্চিত করা যে তথ্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে তা সর্বস্তরের লোকেরা বুঝতে পেরেছে কিনা। সেভাবেই আমাকে বক্তব্য উপস্থাপন করতে হবে। আমার বক্তব্য যারা শোনে তারা তো আমাদের দেশের, বেশিরভাগই সাধারণ মানুষ ... কারণ তারা (সাধারণভাবে), সাধারণ মানুষ এবং তাদের প্রধানমন্ত্রী কী বলছেন তা তো বুঝতে হবে।

সুত্রঃ বারনামা

No comments

Theme images by Dizzo. Powered by Blogger.