"কুয়ালালামপুরের পাইকারি বাজারে ২৮ জন আক্রান্ত, ১ জনের মৃত্যু। দুই লক্ষ বাসিন্দা অবরুদ্ধ", বিস্তারিত

গত ১৭ই এপ্রিল ৩৬ বছর বয়সী মিয়ানমারের  ১ যুবক করোনায় আক্রান্ত হয়ে সেলায়াং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর মৃত্যুবরণ করেছিলেন। এরপরই কুয়ালালামপুর এর পাইকারি বাজার সহ ২টি

 এলাকার উপর গুরুত্ব সহকারে যাচাই-বাছাই এর পর এলাকাগুলোতে কাটাতারের বেড়া দিয়ে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয় যাতে ঐসব এলাকা থেকে কোথাও না যেতে পারে। স্বাস্থ্য মহাপরিচালক দাতুক ডাঃ নূর হিশাম আবদুল্লাহ বলেছেন, আজ অবধি ২,০৬৪ জন ব্যক্তির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে যার মধ্যে ২৮ জনের কোভিড-১৯ পজিটিভ পাওয়া যায় এবং শুক্রবার একজনের মৃত্যু হয়েছিল।

এর জন্য আমাদের কড়া নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি কুয়ালালামপুরের পাইকারি বাজারের চিহ্নিত এবং উচ্চ মাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিদেশি শ্রমিকদের সকল গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এলাকাগুলোতে আমরা ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করেছি। মৃত মায়ানমারের নাগরিককে মালয়েশিয়ার ৮৮ তম মৃত্যুর রেকর্ড করা হয়েছে। সরকার আজ কুয়ালালামপুরের পুসাত বান্দার উতারা এবং সেলায়াং পাইকারি বাজারের আশেপাশের অঞ্চলগুলোতে কুয়ালালামপুরের
৬ষ্ঠ তম ইমারজেন্সি মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার

 EMCO জারি করা হয়েছে। সিনিয়র মন্ত্রী দাতুশ্রী ইসমাইল সাবরি ইয়াকুব বলেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পরামর্শ অনুসরণ করে সরকার এই অঞ্চলগুলিতে ইএমসিও বা অতিরিক্ত গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ আদেশ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আজ থেকে আগামি ৩রা মে অবধি ২ সপ্তাহ কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে। EMCO বা ইমার্জেন্সি মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডারের অধীনে কুয়ালালামপুরের পুসাত বান্দার উতারা এবং সেলায়াং পাইকারি বাজারের

 আশেপাশের আটটি জায়াগা ঘিরে গড়ে তোলা হয় এই নিরাপত্তা বেষ্টনী। সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের স্থান সেলায়াং পাইকারি বাজারের আশেপাশের এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য সেখানে ৫০০ স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে প্রতিদিন ১'৫০০-২০০০ জনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা সপ্তাহে ১৫'০০০ থেকে ১৬০০০ জনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়েছে। ধীরে ধীরে এলাকাটিতে বসবাসকারী সবাইকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার আওতায় নিয়ে আসা হবে।

 এদিকে আজ সিনিয়র প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসমাইল সাবরি ইয়াকুব জানিয়েছেন যে, পাইকারি বাজারটি আগের মতই চালু থাকবে, মার্কেটটি এখনো বন্ধ হয়নি। তবে মার্কেটের আশেপাশের বিভিন্ন আবাসিক ভবনগুলোতে বসবাসরত বিভিন্ন বাসিন্দা বিশেষ করে বেশিরভাগই রোহিঙ্গা বসবাসকারী এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করা হয়েছে।

 রোহিঙ্গাদের আক্রান্তের বিষয়ে ইউনাইটেড ন্যাশনস হাই কমিশনার ফর রিফিউজি (UNHCR) কে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। এই এলাকাগুলোতে বেশিরভাগই মায়ানমার,  রোহিঙ্গা, ভিয়েতনাম, ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকদের বসবাস। তবে রোহিঙ্গারা খুবই বিপত্তি বাধিয়েছে। স্থানীয় নাগরিকদের সাথে বাক বিতন্ডা হচ্ছে। বেরিতা হারিয়ান নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী চিহ্নিত এলাকাগুলোতে ২ লক্ষ বাসিন্দা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 যেসব রাস্তা গুলোতে কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে বন্ধ করা হয়েছে সেগুলোঃ-

জালান 6/3 এ, পুসাত বান্দর উতারা),

জালান 6/3 এ এবং 9/3 এ, পুসাত বান্দার উতারা),

জালান  2 / 3A, পুসাত বান্দর উতারা),

জলান 2/3 এ, পুসাত বান্দর উতারা),

তামান শ্রী মুরনি ফাসা 2, জালান 1/2 ডি),

তামান শ্রী মুরনি ফাসা 1, জালান 1/2 ডি)  ),

তামান শ্রী মুরনি ফাসা 3, জলান 1/2 বি),

তামান বাতু ভিউ এবং তামান বাতু হাম্পার)।

No comments

Theme images by Dizzo. Powered by Blogger.