সকল কর্মীদের কোভিড-১৯ টেস্ট খরচ সরকারের বহন করা উচিতঃ মালয়েশিয়া মালিক সমিতি।

কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবের কারণে অভিবাসী কর্মীদের হেলথ স্ক্রিনিং টেস্ট এবং চিকিৎসার খরচ সরকারের বহন করা উচিত বলে জানিয়েছেন নিয়োগকর্তা বা কোম্পানির মালিকগন। মালয়েশিয়ার এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (MEF) নির্বাহী পরিচালক দাতুক শামসুদ্দীন বরদান বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে এই ধরনের অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য কেবল শিল্প ও ব্যবসায়ের লোকজন,কর্মী ও জনসাধারণকেই

বিভ্রান্ততে ফেলছেনা বরং অনেক ব্যবসায়ীরা মনে করছে তারা এই ব্যয় বহন করতে বাধ্য হচ্ছে যা ব্যবসায়ীদের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে। তবে কোভিড -১৯-এর জন্য হাসপাতালে ভর্তির বিষয়টি এখন সোকসো দ্বারা স্বীকৃত একটি রোগ। তাহলে এর অর্থ কি দাঁড়ায়? নিয়োগকর্তা বা মালিকগণ কি এই খরচ এখনো দিবে? আমি তাও মনে করিনা, কারণ এই খরচের ভার সম্পুর্ন সোকসো গ্রহন করেছে। এই মৌলিকবিষয় গুলো নীতিনির্ধারকগণ আলোচনা ও উপলব্ধি করতে ব্যার্থ হয়েছেন। শামসুদ্দিন বলেন যে,

 স্থানীয় এবং অভিবাসী উভয় কর্মীদের জন্যই হেলথ স্ক্রিনিংয়ের কাজ সোকসোর বাধ্যবাধকতার অধীনে। তবে আনুষাঙ্গিক অন্যান্য ব্যয় যেমন প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণগুলিকে জীবাণুমুক্ত করা, কোভিড-১৯ প্রতিরোধে অন্যান্য পদক্ষেপ নিয়োগকর্তা বা মালিকদের উপর বর্তায়।

এদিকে ফেডারেশন অফ মালয়েশিয়া ম্যানুফ্যাকচারার্স (এফএমএম) সভাপতি তান শ্রী সোহ থিয়ান লাই বিদেশী কর্মীদের পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক করায় সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। কুয়ালালামপুরের আম্পাং এলাকায় বিদেশি ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে করোনা আক্রান্তের কারণে বড় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে যার মাধ্যমে আরও বহু লোক আক্রান্তের ঝুঁকি ছিল। তাই প্রতিটি অভিবাসী কর্মীদের পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হিসেবে আমরা বুঝতে পারি যে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প কারখানাগুলোতে কর্মরত স্থানীয় এবং অভিবাসী কর্মীদের কোভিদ 19 এর হেলথ স্ক্রীনিং টেস্ট সরকারের বহন করা উচিত বিশেষ করে অবৈধ কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

কোভিড -১৯ দ্বারা আক্রান্ত কর্মীদের চিকিৎসা করার বিলটি মালিকদের প্রদান করার ক্ষেত্রে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে এই চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকারক্বি বহন করা উচিত।  কারণ আক্রান্ত ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিকভাবে কবিতা কোভিড-19 এর চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা সরকারী হাসপাতালগুলোতে পাঠাতে হয়েছিল এবং এর মধ্যে বিদেশি শ্রমিকেরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তিনি উল্লেখ আরও করেছিলেন যে সমস্ত অভিবাসী কর্মীদের ফরেন ওয়ার্কার হসপিটালাইজেশন অ্যান্ড সার্জিকাল স্কিমের (SKHPPA) আওতায় বাধ্যতামূলক করা ছিল। এই স্কীমের ক্ষেত্রে, চিকিৎসা এবং হাসপাতালে ভর্তি সংক্রান্ত যে কোনও ফি ও এর ব্যয়ও এই বীমা কভারেজের আওতায় আনা যেতে পারে যা যেকোনও বেসরকারী বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি হতে পারে ক্লেইম করা যেতে পারে জানান তিনি

 মালয়েশিয়ার SME অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দাতু মাইকেল কং বিশ্বাস করেন যে কর্মচারীদের চিকিতৎসার ব্যয়ের জন্য দায়ী কে এই প্রশ্নে কিছু ভুল ধারণা রয়েছে। কং বলেন, কোভিড -১৯ এর চিকিৎসা কেবলমাত্র সরকারী হাসপাতালে করা যেতে পারে, যখন পরীক্ষাটি বেসরকারী ও সরকারী উভয় হাসপাতালেই করা যায়। আপনি যদি সোকসোতে নিবন্ধিত হন, তবে তারা পরীক্ষার ব্যয় বহন করবে।  যদি নিয়োগকর্তারা সোকসো এর আওতাভুক্ত না হয়, তবে তারা তাদের বীমা গুলো যাচাই করে দেখতে পারেন যে এর মধ্যে চিকিৎসা বীমা ও টেস্ট অন্তর্ভুক্ত কিনা।

মালয়েশিয়া রিটেইল চেইন অ্যাসোসিয়েশনের (MRCA) সভাপতি দাতুশ্রী গ্যারি চুয়া বলেছেন যে ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত বিদেশী কর্মীদের জন্য চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য দায়ী কে এক্ষেত্রে কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে। আমি এ বিষয়ে একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে স্পষ্টতা চেয়েছিলাম যেহেতু বেসরকারী হাসপাতালগুলি কোভিড-১৯ আক্রান্তদের চিকিৎসা করবে না কারণ তারা কেবলমাত্র সরকার কর্তৃক মনোনীত হাসপাতালেই চিকিৎসা করতে পারে। আমাকে বলা হয়েছিল যে শ্রমিকদের নামমাত্র মূল্যে সরকারী হাসপাতালে চিকিত্সা করা উচিত বলে জানান।
এই জাতীয় ক্ষেত্রে, কোভিদ 19 এর চিকিৎসা হেলথ স্ক্রিনিং টেস্ট এর নামমাত্র মূল্যে দেয়া হলে নিয়োগকর্তা বা কোম্পানি মালিকগণ এই ব্যয়ভার বহন করতে রাজি হবেন।

মালয়েশিয়ার ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতির সভাপতি টি মুথুসামি উল্লেখ করেছেন যে নিয়োগকর্তারা বিদেশী কর্মীদের জন্য করা ফরেন ওয়ার্কার হস্পিটালাইজেশন এন্ড সার্জিক্যাল স্কিম (FWHSS) বীমাটির আওতায় সকল বিদেশি কর্মীদের চিকিৎসা হওয়া উচিত। কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত বিদেশিদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ার ফলে
সরকারের উদ্বিগ্ন রয়েছে এবং সিদ্ধান্তটি জানিয়েছে।

মালয়েশিয়ায় কর্মরত বিভিন্ন বাংলাদেশী কর্মীদের কাছ থেকে জানা গেছে যে সরকার কোম্পানিদের উপর এই খরচটি চাপিয়ে দেয়ার কারণে কোম্পানীগন আবার শ্রমিকদের উপরে এই খরচ চাপিয়ে দিচ্ছে। বিভিন্ন ফ্যাক্টরি কলকারখানা কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলোতে নিয়োগকর্তা গান তাদের কর্মীদের বেতন থেকে করোনা টেস্টের খরচ কেটে নিবেন বলে জানানো হয়েছে।

No comments

Theme images by Dizzo. Powered by Blogger.