জেনে নিন, মালয়েশিয়ার কোরবানির ঈদ কিভাবে হয়
বিভিন্ন দেশের কুরবানী দেয়ার আয়োজনগুলো হয় বিভিন্ন রকম, আমরা বাংলাদেশী হিসেবে নিজ দেশের কুরবানীর আয়োজনে বেশ অভ্যস্ত। কিন্তু আমাদের কুরবানির রীতিনীতিগুলো অন্য দেশের সাথে একেবারেই অমিল। তো আজকে আমরা মালয়েশিয়ার কুরবানী নিয়ে আলোচনা করছি,
আপনি একেবারেই অবাক হবেন যে,
মালয়েশিয়ায় কোরবানির ঈদের জন্য গরু বা খাসি বা অন্য কোন পশু কেনাবেচার কোন হাটই বসে না এবং কারো বাড়ির সামনে কখনোই কোন পশু কোরবানি হয় না।
আপনি আরো অবাক হবেন যে, সাধারণত অত্যন্ত ধনী ব্যক্তি, বড় ব্যবসায়ী কিংবা এখানকার মন্ত্রীও একটি উট, গরু বা মহিষ একা কোরবানি দেন না অথবা দেওয়ার কথা কল্পনাও করতে পারেন না।
এখানকার সমাজ ব্যবস্থা মূলত মসজিদভিত্তিক। কোরবানির একমাস পূর্বে কোন এক জুম্মার নামাজের আগে, মসজিদের নোটিশ বোর্ডে বেশকিছু সাদা কাগজ ১ থেকে ৭ ক্রমিক নাম্বার লাগিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে যে বা যারা কুরবানী দিবেন প্রত্যেকে যার যার নিজের নাম ও ফোন নাম্বার লিখে যান। বেশিরভাগ মুসল্লি এক নাম কোরবানি দিয়ে থাকেন অর্থাৎ একটি গরু সাত জনে মিলে এখানে কোরবানি দেন।
কোরবানির গরু মসজিদ এর মাধ্যমে ক্রয় করা হয় এবং পূর্ব থেকেই বলে দেওয়া হয় যে প্রতিটি ভাগের দাম কত পড়বে। সাধারণত মসজিদের এর জাতীয় আয়োজনে ৪৫০ থেকে ৫০০ রিঙ্গিত করে একভাগ এর দাম পড়ে। যা বাংলাদেশী টাকায় ৮০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা।
কোরবানি ঈদের নামাজ শেষে, পশু জবাই করে মসজিদেই ওই পশুর মাংস রান্না করা হয় এবং স্থানীয় সবাই মিলে একসাথে বসে এখানে খাবার খেয়ে থাকেন। মাংসের বাকি অংশ স্থানীয় প্রতিটি বাসায় সমহারে বন্টন করা হয়। যারা কোরবানি দিয়েছেন এবং যারা দেননি সবার মধ্যে এই মাংস সমভাবে বন্টন করা হয়।
বাংলাদেশের যারা মালয়েশিয়াতে রয়েছেন বিভিন্ন ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, ডাঃ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ইন্জিনিয়ার এবং সমাজের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা বিভিন্ন ফার্ম হাউসে গিয়ে খাসি বা ভেড়া কোরবানি দিয়ে থাকেন। এই সাথে কেউ কেউ দলবেঁধে সাধারণত এক নাম করে একটি গরুতে সাত নাম হিসেবে ভাগে কোরবানি দিয়ে থাকেন। আবার অনেকেই আছেন কোরবানির টাকা বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেন, এখানে কোন কোরবানির আয়োজন করেন না।
সুনির্দিষ্ট স্থান ব্যতীত, বাড়ির সামনে রাস্তায়, গলিতে কিংবা যে কোন স্থানে, এখানে কেউ কোরবানি দেওয়ার কথা স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেন না।
বাংলাদেশের জনগণের মত এখানকার জনগণকে, কোরবানির ঈদে, রোজার ঈদে, গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার যথেষ্ট পরিমাণ প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এখানকার গ্রামগুলিতে পাকা রাস্তা রয়েছে এবং প্রতিটি বাড়িতে জায়গা এক বিঘা বা এক একর জমির উপর। প্রতিটি বাড়িতেই এয়ারকন্ডিশন এবং নিদেনপক্ষে দুটো গাড়ি, দুটো মোটরসাইকেল আছে। ঈদের সময় বাংলাদেশের মতোই যারা শহর থেকে মালয়েশিয়ার গ্রামে আসেন সবাই মিলে আনন্দ আয়োজনের ব্যবস্থা গ্রামের হয়ে থাকে।
মালয়েশিয়ার ঈদ আয়োজনের খবর আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে জানাবেন কমেন্ট বক্সে।
সবার জন্য শুভকামনা। ঈদ মোবারক।


No comments