বিমানের সীট ফাঁকা, কিন্তু টিকেটের দাম ৫ গুন বেশি, দেশে ফিরতে ইচ্ছুক অবৈধ প্রবাসীরা পড়েছেন বিপদে।

ফাঁকা সীট নিয়ে বিমানের ফ্লাইট, টিকেটের দাম ৫ গুন

উপরের ছবিটি ভালো করে দেখুন। কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকা যাবার পথে বাংলাদেশ বিমানের অবস্থা। দেখুন, ভাবুন! অবৈধ শ্রমিকরা টিকেটের জন্য যেতে পারে না। চারিদিকে হাহাকার! টিকেট না পেয়ে অবৈধভাবে প্রচুর শ্রমিক থাকতে বাধ্য হচ্ছে। কারন, টিকেটের মূল্য ৪/৫ গুণ বেশী। 



সিণ্ডিকেটের বেড়াজালে বাংলাদেশ বিমান


অনলাইনে বা ট্রাভেল এজেন্সীগুলোতে সিট নেই বাংলাদেশ বিমানের। তাহলে এসব কি? ছবিটি ২৫ ডিসেম্বরের। কিন্তু আপনি কি জানেন কেন বিমানে সিট অবিক্রিত থাকে? নিশ্চই বুঝতে পারছেন না মালয়েশিয়ায় অন্য দেশের বিমান ভাড়া কেন এত বেশী হলো? আর বিমানে কেন সিট  পাওয়া যায় না? বছর বছর বাংলাদেশ বিমান কেন লোকসান দেয়? আর আপনি দেশপ্রেমের আবেগে বিমান ছাড়া দেশে যাবেন না। কিন্তু আপনি বুঝতেই পারেন না যে, আপনার এই আবেগ চুরি করে খাচ্ছে অন্যরা। পৃথিবীতে কোন এয়ারলাইন্স ব্যবসায় লোকসান দেয় না। কিন্তু বাংলাদেশ বিমান সগৌরবে লোকসান দিচ্ছে প্রতি বছরই। দেশ জাহান্নামে যাক, তাতে ওদের কি? ওদের টাকা চাই। বিমানের সিট না দিয়ে ওরা দেশের অর্থনীতির ক্ষতি করছে। যা দেশদ্রোহিতার শামিল। কিন্তু কে নিবে কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা? ক্ষেত রক্ষার জন্য বেড়া দেয়া হয়। কিন্তু সে বেড়ায় ক্ষেত খাচ্ছে। এটা যে মগের মুল্লুক। টাকা কামানোর মেশিন হচ্ছে বাংলাদেশ বিমান। বিমানে চাকরি মানেই- লাইফটা শান্তির নীড়।

এই সিন্ডিকেট কেন?

আপনারা অনেকেই জানেন পুরো ডিসেম্বর মাসেই বাংলাদেশের প্রায় সবগুলো এয়ারলাইন্সে সিট খালি নেই। কিন্তু কেন? এই রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে যা জানতে পারলাম, বাংলাদেশের তিনটি এয়ারলাইন্স বাংলাদেশ বিমান, ইউএসবাংলা ও রিজেন্ট এয়ারওয়েজ মিলে সিন্ডিকেট করেছে। এরমধ্যে বাংলাদেশ বিমান প্রায় পুরো মাসেই সিট খালি ছিল না। যাও খালি পাওয়া গেছে তাও ভাড়া অনেক বেশি। ইউএস বাংলায় মাঝেমধ্যে লোক দেখানোর জন্য কিছু কিছু সিট বেশী দামে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু রিজেন্ট এয়ার খেলেছে মজার খেলা। যে সময়টা ব্যবসার মৌসুম ঠিক সে সময়ে তাদের বিমানগুলো সংস্কারের অজুহাতে ফ্লাইট কমিয়ে দেয়া হয়েছে। বুঝলেন কিছু? তার মানে বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি সবগুলো বিমানেই এক অবস্থা। অর্থাৎ ব্যবসার মৌসুমে তারা কোনো ব্যবসাই করেনি। কিন্তু কেন? সাধারণ মানুষ বুঝতে না পারলেও নিশ্চয়ই আপনি এতক্ষণে রহস্যটা উদঘাটন করতে পেরেছেন। অর্থাৎ বিভিন্ন এয়ারলাইন্স এর সাথে একটা গোপন চুক্তির মাধ্যমে তাদের ব্যবসা থামিয়ে রেখেছে। আর মানুষ অন্য বিমানের টিকেট কাটতে বাধ্য হয়েছে বহুগুন বেশী দামে। সেই সুবাদে এয়ার এশিয়ার মত বাজেট বিমানেও ভাড়া ৫/৬ গুণ বেশি। যার একটা ভাগ পেয়েছে এই সিন্ডিকেট চক্র। আর সে টাকাগুলোর যোগান দিয়েছে আমাদের গরীব মানুষগুলো। ভাড়া বেশি হলেও সব বিদেশী বিমানেই সিট পাওয়া গেছে। কিন্তু বাংলাদেশ বিমানে সিট নেই দেখিয়ে ডাক ঢোল পিটিয়ে ১৬ টি আলাদা ফ্লাইট দেবার ঘোষনা করেছে। যদিও প্রতিদিনই Sold out দেখানো হয়েছে। কোথায় অতিরিক্ত ১৬ ফ্লাইট? আপনি কি মনে করেন সবই বিক্রি হয়ে গেছে? না। সিট খালি গেছে প্রচুর।  এইভাবে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতি করেছে বিমানের এই দেশদ্রোহী চক্রটি। কারণ যে সিটগুলো বিক্রি করলে বাংলাদেশে বৈদেশিক অর্থ আহরণ করতে পারত, সেই অর্থ অন্য দেশের বিমান হাতিয়ে নিল। বাংলাদেশীদের বাধ্য করা হল ভিন্ন দেশের বিমানে চড়তে। আর দেশের প্রাপ্য অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এই সিন্ডিকেটচক্র কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এভাবেই প্রতি বছর বিমান সরকারকে সগৌরবে  লোকসান দেখাচ্ছে। উপরন্ত সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে বিমানের পেছনে। কিন্তু সে টাকাগুলোর মালিক কিন্তু আপনি আমি আমরা সবাই। এবার আপনি সিদ্ধান্ত নিন ভবিষ্যতে আপনি কি সস্তা দেশপ্রেমের আবেগে বিমানে চড়বেন নাকি বিমান বর্জন করবেন। আর এই কুচক্র সিন্ডিকেটত ভাগের অংশ কিন্তু অনেক কুলাঙ্গারের পেটেও ডুকেছে। বিমানের সচিব তাই বলেছেন- প্রবাসীদের এমন সেবা দিতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।

(এই ফেসবুক পোস্ট বিশিষ্ট সাংবাদিক গৌতম রায়ের ফেসবুক থেকে নেয়া)

No comments

Theme images by Dizzo. Powered by Blogger.