ব্যবসায়ীর বাসায় ডাকাতি, রোহিঙ্গাসহ ৬ ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাকে আটক করেছে মালয়েশিয়ার পুলিশ
গত শুক্রবার জালান মেগাত হারুনে এক ব্যাবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় পেনাং রাজ্য ইমিগ্রেশন বিভাগ এর কর্মকর্তা ও ৩ জন রোহিঙ্গাসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের জন্য পুলিশ আরও একজন ইমিগ্রেশন বিভাগ এর কর্মকর্তাকে খুঁজছে।
গ্রেফতারকৃত ছয়জনকে রাজ্যের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল যাদের বয়স ২৪ থেকে ৪৪ এর মধ্যে। সেবেরাং প্রি তেঙ্গা জেলা পুলিশ প্রধান সহকারী কমিশনার নিক রোজ আজান নিক আব্দুল হামিদ বলছেন ছয় জনের মধ্যে চার জন শুক্রবার ভোর ৪ টায় ৪৭ বছর বয়সী ব্যবসায়ীর বাসায় গিয়ে নিজেদের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেয়।
তাদের মধ্যে একজন ইমিগ্রেশন ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় গিয়েছিল এবং অন্য ৩ জন ইমিগ্রেশন এর লোগো সহ বেসবল ক্যাপ পড়েছিল।
তারা ঐ ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রীকে ডেকে তাদের ব্যক্তিগত নথিপত্র পরীক্ষা করেছিল, তাদের তখন অভিযোগ করে যে ঐ ব্যবসায়ী ভুয়া ডকুমেন্টস বানানোর এজেন্ট ছিল। পরে তারা ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত রুমে প্রবেশ করে নগদ ২১১২৬ রিঙ্গিত নিয়ে নেয়। তাদের রুমে থাকা বিভিন্ন আইটেম জব্দ করার নাম দিয়ে একটি স্যামসাং জিপ ব্যাগ, একটি নেকলেস, ২ টি চেইন, ৩টি নেকলেস, ছয়টি ব্রেসলেট, ৭ টি আংটি, ২ জোড়া অয়ানের দুল, ২টি স্যামসাং ও একটি নোকিয়া ফোন সহ আরও অন্যান্য জিনিসপত্র ডাকাতি করে।
এই চার ব্যক্তি একটি পেরোদুয়া আলজা গাড়ি ব্যবহার করে পালিয়ে যায়। পরে ঐ ব্যবসায়ী থানায় মামলা করলে পুলিশ রিপোর্ট অনুযায়ী পুলিশ ৫ টি ভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক তদন্তে তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে এবং গত নভেম্বরে আরও ২ টি ডাকাতির সাথে জড়িত ছিল বলেও স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয়। জেটি ওলং কেপি গ্রেয়াদ ১৯ নামে পরিচিত ডাকাতির মূল আসামিকে পুলিশ খুজছে, তার মাধ্যমে এইসব ডাকাতির সকল রহস্য উন্মোচন হবে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
এই ধরনের ইমিগ্রেশনের ও পুলিশ কর্মকর্তা পুরো মালয়েশিয়াতেই এসব কার্যক্রম চালায়, এদের সাথে সাধারণ নাগরিকও পুলিশ বা ইমিগ্রেশনের পোষাক পরিহিত অবস্থায় ডাকাতি করে। এদের বিশেষ টার্গেট হচ্ছে মালয়েশিয়াতে অবস্থানরত বিদেশী শ্রমিক। তারা বিদেশী শ্রমিকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়, যাদের ভিসা আছে তাদেরকেও ভুয়া পুলিশ সেজে হয়রানি করে।


No comments