করোনা ভাইরাসে মালয়েশিয়ার ব্যবসায় ধ্বস ও অর্থনীতিতে চরম বিপর্যয় , কমে যাচ্ছে রিঙ্গিতের দাম।
চীনের উহান ও হুবেই প্রদেশ থেকে সৃষ্টি হওয়া করোনা ভাইরাস এখন বিশ্বব্যাপী এক মহা আতংকের নাম। মরণব্যাধি এই ভাইরাসের কারণে বিভিন্ন দেশের চায়নার সাথে ব্যবসায়ীক যোগাযোগ অনেকটা থমকে গেছে। চায়নার মরণব্যাধি করোনা ভাইরাস মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের ব্যবসায় ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলেছে যার ফলে বিভিন্ন ধরনের পন্য আনা নেয়া ও অন্যান্য ব্যবসা বানিজ্যিক লেনদেন বন্ধ হয়েছে। এইভাবে চলতে থাকলে ধীরে ধীরে
মালয়েশিয়ার অনেক কোম্পানি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে বলে ধারণা করছেন বিশিষ্টজনেরা। অর্থনৈতিক অবস্থা পড়ে যাবে চরম হুমকির মুখে। বিভিন্ন ব্যাংক, কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে যাবে৷ বিশেষ করে মালয়েশিয়ার অর্থনীতির বেশিরভাগই চায়নার সাথে আমদানি নির্ভর যা বিশিষ্ট জনদের মত প্রায় ৮০% নির্ভরশীল। মালয়েশিয়ায় ব্যাবসায়ীদের বড় একটি অংশ হচ্ছে চাইনিজ মালয়েশিয়ান। বিশেষ করে প্রতিটি সেক্টরেই চাইনিজদের ব্যবসা প্রসার ঘটেছে। যার কারনে সকল ব্যবসা বানিজ্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু চায়না হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ মালয়েশিয়ার শপিংমলগুলোতে আগের মত লোক সমাগম নেই। ক্ষুদ্র থেকে বড় ব্যাবসায়ীদের ব্যবসায় চরম মন্দাভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যার ফলে অর্থনীতি ধীরে ধীরে দূর্বল হয়ে যাচ্ছে। এদিকে মালয়েশিয়ার
রিঙ্গিতের দামও কমে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। গত মাসে যেখানে প্রতি রিঙ্গিতের দাম বাংলাদেশী টাকায় ২১ টাকার উপরে ছিল, সেখানে এখন ২০ টাকা ৫৯ পয়সার নিচে নেমে এসেছে। মালয়েশিয়ার পর্যটন শিল্পেও দেখা দিয়েছে টুরিস্ট সংকট যার ফলে বিভিন হোটেল রেস্টুরেন্টের বুকিং ও কমে গেছে।
পর্যটকদের পদচারণায় যেসব এলাকাগুলো কোলাহলপূর্ন ছিল সেসব স্থান এখন অনেকটাই ফাঁকা। মূলত এইসকল সমস্যার প্রভাব মালয়েশিয়ায় কর্মরত সকল অভিবাসী শ্রমিকদের উপর পড়েছে। আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে স্থবিরতার কারণে ফ্যাক্টরিগুলোতে উৎপাদন কম থাকায় শ্রমিকদের ওভারটাইম ও কম হচ্ছে যার ফলে নূন্যতম ৮ ঘন্টা কাজ করেই বাসায় ফিরতে হচ্ছে। সাধারণত ৮ ঘন্টা কাজ করে কোন শ্রমিকই সন্তুষ্ট থাকেনা। এটা পুরো মালয়েশিয়াতে বসবাসকারী সকল বিদেশী শ্রমিকদের মাঝে একটি গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


No comments