মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, ইতিমধ্যেই রোগের লক্ষ্মণ বোঝার পর ১০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে

মালয়েশিয়াতে বলতে গেলে চক্রবৃদ্ধি হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। সরকারও থেমে নেই একের পর এক জনবান্ধব পদক্ষেপ নিয়েই যাচ্ছেন। সারাদেশে টানা ১ মাসের লকডাউন দেয়া হয়েছে শুধুমাত্র আক্রান্তের স্রোতকে

আটকানোর জন্য। মালয়েশিয়াতে প্রথমধাপে করোনা ভাইরাস তেমন উল্লেখ্য (মাত্র ৫৪জন ছিল) করার মত না থাকলেও চলতি মাসে অস্বাভাবিকভবে সংক্রমণের ফলে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। চলতি মাসে আক্রান্তের সবচেয়ে উল্লেখ যোগ্য কারন হচ্ছে সেরি পেতালিং মসজিদে তাবলীগ ইজতেমায় হাজার হাজার মুসল্লি অংশগ্রহণ ও গনজমায়েত হওয়া অন্যান্য সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ফলে এই সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।  তবে তাবলীগ ইজতেমায় মালয়েশিয়ার প্রায় ১৪৫০০ জন অংশ নিয়েছিল যেখানে বেশ কিছু বাংলাদেশী ও

 রোহিঙ্গাও ছিল। মালয়েশিয়ার পুলিশ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহায়তায় তাবলীগের প্রায় ৯৫ শতাংশ লোককে কোভিড-১৯ এর টেস্ট করতে সক্ষম হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যার মধ্যে প্রায় ১২০০ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।  তবে রোহিঙ্গা ও বংলাদেশীদের একটি অংশ এখনো এই ভাইরাসের উপস্থিতি আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে আসেনাই। বলতে গেলে তারা পলাতক রয়েছেন।

তাবলীগ ইজতেমার কমিটির কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে তাদের খুজে বের করতে বিশেষ টিম কাজ করছে বলে এক সুত্রে জানা গেছে। এদিকে গতকাল ডিবিকেএল এর সহযোগিতায় মালয়েশিয়ার পুলিশ তথ্যের ভিত্তিতে বড় পাইকারি বাজার সেলায়াং এ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪০০ জন বিদেশীকে পরীক্ষা করে, পরে সেখান থেকে

 বাংলাদেশী, ইন্দোনেশিয়া ও মায়ানমারের ১০ জনকে কোভিড-১৯ এর লক্ষ্মণ উপস্থিত থাকার কারণে কোয়ারেন্টাইনে বা গৃহবন্দী হিসেবে রাখা হয়েছে। এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বারবার বলা হয়েছে যারা ঐ ইজতেমায় অংশগ্রহণ করেছিল তাদের সবাইকে বাধ্যতামূলক কোভিড-১৯ এর হেলথ স্ক্রিনিং টেস্ট করে নিশ্চিত হওয়ার জন্য৷

আরও পড়ুন
👇
কুয়ালালামপুরে ৪০০ শ্রমিকের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর বাংলাদেশীসহ ১০ জনকে গৃহবন্দী বা কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
👇
বাদ গেলনা কেউঃ রাজভবনে ৭ জন কর্মচারী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৮০ জন সদস্য করোনায় আক্রান্ত।
👇
মালয়েশিয়ায় অবৈধ প্রবাসীদের এখন আর গ্রেফতার করা হবেনা বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী


উল্লেখ্য যে মালয়েশিয়াতে সবমিলিয়ে প্রায় ১০ লাখের বেশি কর্মী বিভিন্ন পেশায় কর্মরত রয়েছেন তবে এখনো পর্যন্ত কোন বাংলাদেশীকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু বিভিন্ন সুত্র মতে তাবলীগ ইজতেমা থেকে আসা কয়েক বাংলাদেশীর মাধ্যমে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের কারো জর কাশি শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত অন্যান্য রুমমেট এর কাছ থেকে সম্পুর্ন আলাদা হয়ে হাসপাতালে কল করবেন। অথবা নিজে দ্রুত হাস্পাতালের চলে যাবেন। মনে রাখবেন এই ভাইরাস হলে কেউ আপনাকে সহযোগিতা করে হাসপাতালে দিয়ে আসবেনা। নিজে সচেতন হোন, অন্যকে সচেতন করুন, নিরাপদে বাসায় অবস্থান করুন।

No comments

Theme images by Dizzo. Powered by Blogger.