তাবলীগের ১৪৫০০ জনকে নিয়ে দুশচিন্তায় মালয়েশিয়া, ৪০০ জনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ৩ জন শনাক্ত।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২রা মার্চ পর্যন্ত কুয়ালালামপুরের শ্রী পেতালিং মসজিদে একটি তাবলিগ ইজতেমায় মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ

থেকে ১৬৫০০ জনের মত লোক সমাগম হয়েছিল যেখানে ১৪৫০০ জনই পুরো মালয়েশিয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে গিয়েছিল। এই তাবলীগ ইজতেমা নিয়ে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সহ সকল মন্ত্রণালয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ এই তাবলীগ থেকেই ইতিমধ্যেই ৩ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। আর এই তাবলীগ ইজতেমায় ব্রুনেই থেকে আগত প্রথম করোনায় আক্রান্ত সদস্যের  শরীর থেকে পুরো ইজতেমা বেশিরভাগই আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই তাবলীগ

 ইজতেমায় অংশ নেয়া সকল মালয়েশিয়ানকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার কাজে নেমেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সরকারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যগন। বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ তাদের গতিবিধি  এবং ইজতেমা শেষ হওয়ার পর কে কোথায় ফিরে গিয়েছে সকল তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মোট কথা মালয়েশিয়ার প্রায় ১৪৫০০ জন তাবলীগ জামাতের সদস্যকে পরীক্ষা করার মত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ এর মুখোমুখি হয়েছে মালয়েশিয়া সরকার।

ইজতেমায় অংশ নেওয়া তাওয়াউয়ের প্রায় ৩০০ জন এবং কেলানতানের ১৩২ জন পুরুষ করোনা ভাইরাস (কোভিড -১৯) এর হেলথ স্ক্রিনিং টেষ্ট করিয়েছে। তাওয়াউ হাসপাতালের স্বাস্থ কর্মকর্তা বলেছেন যারা এই তাবলীগ ইজতেমার সমাবেশে অংশগ্রহণ করেছেন তাদের সবাইকেই বাধ্যতামূলক হেলথ স্ক্রিনিং টেস্ট করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন

মালয়েশিয়ায় আরও ৩৯ জন বেড়ে মোট ১৯৭ জন আক্রান্ত, বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে সরকার।


তিনি তাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ভয় পাবেন না, আসুন, এসে আপনার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।! নিজের স্বাস্থ্য এবং আপনার পরিবারের স্বার্থের কথা ও দেশের এই দূর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকেই এগিয়া আসা উচিত বলে জানিয়েছেন তিনি।

 ডাঃ নবীন্দ্রন বলেছিলেন, তাওয়াউ, লাহাদ দাতু, কুনাক এবং সেম্পর্না থেকে ৩৫০ জন লোক এই সমাবেশে অংশ নিয়েছিল যেখানে প্রায় ১৪,০০০ এরও বেশি লোক সমাগম হয়েছিলিল। এদিকে, কুনাক হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ আসবুল্লাহ সুদিন জানিয়েছেন, সমাবেশে যোগ দেওয়া কুনাকের ১৭ জন লোক হেলথ স্ক্রিনিংয়ের জন্য নিজেরাই এসেছে এবং এর পরে সবাইকে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়

কেলাতানের হেলথ ডিরেক্টর ডাটুক ডাঃ জাইনি হুসিন বলেছিলেন যে মসজিদ সমাবেশে অংশ নেওয়া ১৩২ জন পুরুষের উপর হেলথহ স্ক্রিনিং টেস্ট করার পর ফলাফল পাওয়া গেছে ৪২ জনের উপর
করোনা ভাইরাসের উপসর্গ গুলো দেখা যায়।

১৩২ জনের মধ্যে ৭০ জন কে পুসাত লতিহান তাম্পাত হাসপাতালে কোয়ারানটাইনের অধীনে এবং ৫৯ টি হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। আর বাকি ৩ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের সকল উপসর্গ থাকার কারণে তাদেরকে করোনা আক্রান্ত বলে শনাক্তকরণ করা হয়।

একটি বিবৃতিতে আরও বলা হয় যাদের মধ্যে ছোট খাটো উপসর্গ অনুভূত হবে তারা যেন সেচ্ছায় কোয়ারেন্টাইনে থাকে।
ডাঃ জয়নি আশা করেন যারা এই তাবলীগে অংশ নিয়েছেন তারা যেন তাদের নিকটবর্তী স্বাস্থ্য ক্লিনিক বা হাসপাতালে হেলথ স্ক্রিনিং টেস্ট করিয়ে নেয়।

No comments

Theme images by Dizzo. Powered by Blogger.