মালয়েশিয়ার ইতিহাসে এই প্রথম কোন মুফতি ধর্ম মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। বিস্তারিত পড়ুন

মালয়েশিয়ার বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রীপরিষদের সকল পদে একের পর এক চমক এসেছে।

সাধারণ মানুষও অবাক হয়েছেন মহিউদ্দিন ইয়াসিনের প্রধানমন্ত্রী হওয়া এবং তার মন্ত্রী পরিষদের নির্বাচিত মন্ত্রীদের মন্ত্রীত্ব পাওয়া নিয়ে। নবগঠিত মন্ত্রীপরিষদে সবচেয়ে বড় চমক হচ্ছে কোন উপমন্ত্রী না রেখে ৪ সিনিয়র মন্ত্রী নিয়োগ দেয়া যা ব্যপক সাড়া ফেলেছে পুরো মালয়েশিয়াতে৷

মালয়েশিয়ার ইতিহাসে এই প্রথম কোন মুফতি মহিউদ্দিন ইয়াসিন এর নবগঠিত মন্ত্রীপরিষদের ধর্ম মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। ফেডারেল টেরিটরি কুয়ালালামপুর এর মুফতি দাতুশ্রী ডক্টর জুলকিফলি মোহাম্মদ আল-বাকরীই একমাত্র মুফতি যিনি ধর্ম মন্ত্রণালয় এর মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রধানমন্ত্রী তান শ্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন পুত্রজায়ায় মন্ত্রিপরিষদের মন্ত্রীদের নতুন তালিকা ঘোষণার সময় বলেছিলেন যে জুলকিফলি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পোর্টফলিও রাখবেন।

এই ঘোষণা শুনার পর জুলকিফলি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে একটি টূইট বার্তায় নতুন এই দায়িত্বটি যথাযথভাবে পালনের জন্য শক্তি দান করার আল্লাহর কাছে প্রার্থনা ও জনগণের প্রতি দোয়া চেয়েছেন।

তিনি বলেছিলেন আমার জন্য প্রার্থনা করুন, আমাকে সহায়তা করুন এবং আমাকে আপনার মতামত জানান।  "আমরা আমাদের প্রাক্তন নেতাদের উত্তরাধিকার অব্যাহত রাখব এবং মালয়েশিয়ায় যেন ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল জাতি গঠনে সর্বোচ্চতম কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারি এক কথায় সকল জাতিকে নিয়ে সুন্দর একটি রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারি।

৫১ বছর বয়সী ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি ২০১৪ সাল থেকে ফেডারেল টেরিটরি কুয়ালালামপুর মুফতি ছিলেন, তিনি খুবই নম্র ও বিভিন্ন ধর্মের মানুষদের কাছে খুবই পছন্দনীয় ও জনপ্রিয় ছিলেন।

তিনি সিরিয়ায় অবস্থিত সৌদি আরবের মদিনা ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে  স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। সিরিয়ার জামিয়াহ আল-উলুম আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়া আল-আরবিয়াহ থেকে স্নাতক এবং ইউনিভার্সিটি সায়েন্স মালয়েশিয়া (ইউএসএম) থেকে বিশেষ ফতোয়া জারির উপর ডক্টর অফ ফিলোসোফি (পিএইচডি) অর্জন করেছেন।

 জুলকিফ্লিকে ২০১২ সালে ফেডারেল টেরিটরিজ ‘টোকো মওলিদুর রসুল খেতাব।  ২০১৪ সালে তেরেংগানু টোকোহ মাল হিজরাহ্ এবং মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের (এমএসিসি) দ্বারা ২০১৯ সালের দুর্নীতি দমন আইকন হিসেবে খেতাব দেওয়া হয়।

 তিনি ‘বায়ান লিনাস’, ‘ইরসিয়াদ ফতোয়া’ এবং ‘ইরসিয়াদ উসুল ফিকহ’ এর মতো বেশ কয়েকটি ধর্মীয় গ্রন্থ রচনা করেছেন।

No comments

Theme images by Dizzo. Powered by Blogger.