মালয়েশিয়াতে আর্মি, পুলিশ ও হাসপাতালের কাছে তথ্য গোপন করলে ২ বছরের জেল জরিমানা।

মালয়েশিয়াতে সংক্রমিত রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৮৮ এর ২২ (ডি) ধারা মোতাবেক

কোভিড-১৯ এর বিশেষ আদেশে আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত সদস্যদের কাছে কেউ কোন তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা একটি ফৌজদারী অপরাধ বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়া বার কাউন্সিনের সভাপতি সেলিম বশির। রাস্তায় রোডব্লকে, হাসপাতালে অথবা অন্য যেকোনো জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে, তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে ব ক্লিনিকে ডাক্তারদের কাছে ইচ্ছাকৃতভাবে কোভিড -১৯ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা এবং দেশের জনজীবনে সংক্রমণের ঝুঁকি সৃষ্টি করা ও হাসপাতালের কর্মচারী ও চিকিৎসা সুবিধাগুলির জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করার কাজটি একটি ফৌজদারি অপরাধ। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট

 আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ডাক্তার, বা তদন্তে নিয়োজিত কারো কাছে বসবাসের ইতিহাস, কার সাথে গিয়েছে কোথায় গিয়েছে কেন গিয়েছে, আশে পাশে করোনা আক্রান্ত কেউ ছিল কিনা, আক্রান্তদের সাথে কিভাব থাকা হয়েছিল ইত্যাদি নানান ধরনের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হলে সঠিক উত্তরগুলো দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। যদি কোন ব্যক্তি জানেন যে তিনি এই কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের সাথে সংক্রামিত হওয়ার পরেও তিনি তা লুকিয়ে রেখে জনসাধারণের সাথে সামাজিক যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠ চলাফেরা করেন তবে তার বিরুদ্ধে আইনিপদক্ষেপ নেওয়ার বিধান রয়েছে৷ এ জাতীয় আইনের বিষয়ে জনসাধারণকে অবগত করা এবং এর বিরুদ্ধে

ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে পুলিশকে তদারকি করার পরামর্শ দিয়েছেন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা। এজন্য পুলিশি প্রতিবেদন তৈরি করে জনসাধারণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো উচিত বলেও মন্তব্য করা হয়।


আরও পড়ুন





সম্প্রতি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কিছু রোগীর আক্রান্তের বিষয়ে তদন্ত করার সময় এমন কিছু তথ্য পেয়েছি যা ছিল অবাক করার মত। অসচেতনতার কারণে নিজে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয় টের পেয়েও সবার সাথে দিব্যি চলাফেরা ও সামাজিকভাবে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ করে এসেছিলেন।

 জনাব সেলিম বশির আর বলেন, আক্রান্তের বিষয়ে টের পেয়েও যদি সামাজিকভবে ইচ্ছাকৃতভাবে চলাফেরা ও নিজেকে সবার কাছ থেকে আলাদা না করে তবে সেটা একই আইনের ১২ ধারা লঙ্ঘন হবে যা শাস্তিযোগ্য। যদি হাসপাতালে এমন কোন রোগী এ ধরনের তথ্য গোপন করে তবে তার বিরুদ্ধে পুলিশ রিপোর্ট করার আহ্বান জানানো হয়।

 এই ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে।  উল্লেখ্য যে সম্প্রতি কেডাহ রাজ্যের একটি হাসপাতালে একজন লোক করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের বিষয়টি গোপন করেছিলেন পরে ঐ হাসপাতাল প্রায় বন্ধ হয়ে যায় এবং ঐ রোগীকে আলাদা করে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি তার সংস্পর্শে আসা সকল ডাক্তার এবং নার্সগন নিজেরাও কোয়ারেন্টাইনে গিয়েছেন বলে জানান তিনি।

No comments

Theme images by Dizzo. Powered by Blogger.