সিঙ্গাপুরে বেড়েই চলেছে বাংলাদেশী আক্রান্তের সংখ্যা, গতকাল ৪৭ জন সহ মোট ১২৪ জন। বিস্তারিত

সিঙ্গাপুরে বর্তমানে বেড়েই চলেছে করোনা ভাইরাসে কাল থাবা। একের পর এক বাংলাদেশী আক্রান্ত হচ্ছেন। এশিয়ার শ্রম বাজার গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি শ্রমবাজার এটি। কিন্তু এখানেই আক্রান্ত হচ্ছেন একের পর এক বাংলাদেশী।

সিঙ্গাপুরে কর্মীদের বসবাসের ব্যবস্থা খুবই নগন্য, ছোট্ট রুমে থাকতে হয় গাদাগাদি করে, কোথাও এক রুমে ১০-২০ জন পর্যন্ত থাকে। বাংলাদেশী প্রবাসীদের জন্য সিঙ্গাপুর মনে হয় আরেকটি নরক। শুধুমাত্র একটু ভালো বেতন পায় কর্মীরা, অন্যান্য দেশের তুলনায় বেতনের বিষয়টি ভাল বিধায় এত কষ্ট মেনে নিয়ে দিনের পর দিন জীবন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে প্রবাসীরা।

এদিকে গতকাল সিঙ্গাপুর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘোষণা করে নতুন আক্রান্তদের সংখ্যা, যেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১০৬ জন যার মধ্যে ৪৭ জনই বাংলাদেশী। সিঙ্গাপুরে এখনো পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৪৮১ জন। যার মধ্যে সর্বমোট ১২৪ জন আক্রান্ত  হয়েছেন। যার মধ্যে বেশিরভাগই আক্রান্ত হয়েছেন ডরমিটরি বা হোস্টেল ক্লাস্টারের মাধ্যমে

আক্রান্তদের বেশিরভাগ একই সাথে থাকতেন। বর্তমানে সিঙ্গাপুরের অভিবাসী কর্মীদের হোস্টেল গুলোর অবস্থা খুবই আশংকা জনক। ইতিমধ্যেই ২ টি ডরমিটরিতে প্রায় ২০ হাজার কর্মীকে একসাথে কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছে। কিন্তু ২০ হাজার কর্মীদের মধ্যেও ভাইরাস বহনকারী থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন সেখানে বসবাসকারী একজন৷ একই ভবনে কয়েক হাজার বিদেশি কর্মীর বসবাস যেখানা একটা রুমেই ১০-১৫ জন থাকে গাদাগাদি করে।

সিঙ্গাপুরে প্রায় ২০ লাখ অভিবাসীর
বেশিরভাগই নির্মান শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন৷ যাদের বেশিরভাগ জীবন আজ হুমকির মুখে।  সিঙ্গাপুর সরকারের অব্যবস্থাপনা আর বেখেয়ালি মনোভাবের কারণেই আজ এমন উদ্ভুত পরিস্থিতির জন্ম হয়েছে। শ্রমিক কমিউনিটি বা এনজিও কিংবা বড় বড় গণমাধ্যম গুলোতে শ্রমিকদের বসবাসের পরিবেশ নিয়ে বারবার বিভিন্ন সময়ে আলোচনা, সমালোচনা হলে টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের।  অযত্ন, অবহেলা আর কোম্পানিদের চাপিয়ে দেয়া বসবাসের পরিবেশই আজ কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

No comments

Theme images by Dizzo. Powered by Blogger.