ভিডিও কনফারেন্সে মহিউদ্দিন, জানালেন মালয়েশিয়ার করোনা পরিস্থিতির উন্নতি কিভাবে করেছেন।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ১১ টি দেশ নিয়ে গঠিত আসিয়ান (ASEAN) এর বিশেষ একটি সম্মেলনে কোভিড-১৯ মহামারী পরিস্থিতি মালয়েশিয়া কিভাবে সফলতার সাথে মোকাবিলা করছে তার অভিজ্ঞতা অন্য ১০টি দেশের প্রধানের সাথে শেয়ার করা হয়েছে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি কিভাবে মোকাবিলা করছেন, কিভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে সেই বিষয়ক অভিজ্ঞতা ও বাস্তব জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করছেন প্রধানমন্ত্রী মহিউদ্দিন ইয়াসিন।



প্রধানমন্ত্রী তান শ্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন বলেছেন,
মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার বা গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ আদেশ (এম'সি'ও) বাস্তবায়ন সহ কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবজনিত স্বাস্থ্যগত দিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যাগুলো সমাধানে মালয়েশিয়া বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য কৌশল গ্রহণ করেছিল। এম'সি'ও চলাকালীন সরকারী পরিষেবা এবং বেসরকারী গুরুত্বপূর্ণ খাত বন্ধ না করে বিভিন্ন গনজমায়েত মূলক অনুষ্ঠান বা কার্যক্রম সমূহের উপর নিয়ন্ত্রণ রেখে মালয়েশিয়ান ও অন্যান্য বিদেশীদের ঘরে অবস্থান করার কথা বলা হয়েছিল। কোভিড-১৯ ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে অবস্থানরত সকল।মালয়েশিয়ানকে ফিরিয়ে আনার পর অত্যন্ত সুকৌশলে ও সাবধানতা অবলম্বন

করে কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশন নিশ্চিত করা কয়েছিল। বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আক্রান্ত রোগীর এলাকাগুলো অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করার মাধ্যমে ঐ অঞ্চলের বাসিন্দাদের সম্পুর্ন যাতায়াত বন্ধ করা সহ পুরো এলাকার কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হয়েছে। যাতে করে একটি এলাকায় ১০ জন আক্রান্তের মাধ্যমে যদি আরও ১০০ জনের শরীরে ভাইরাস প্রবেশ করে থাকে তবে সেটা আর অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে পড়বেনা। আক্রান্ত এলাকার চিহ্নিত সবাইকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে আক্রান্ত রোগী সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা গেছে। বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনটি ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী নুগেইন জুয়ান ফুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং এশিয়ার অন্যান্য নেতারাও এতে যোগ দিয়েছিলেন।

মুহিউদ্দিন বলেছেন, মালয়েশিয়ার অস্বাভাবিক আক্রান্তের কারণ, আক্রান্ত রোগীর দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, আক্রান্ত রোগিদের সমস্ত জীবণ প্রবাহের ইতিহাস পর্যালোচনা, বিভিন সংস্পর্শ রোগীকে শনাক্ত করা ও হাজার হাজার লোকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিরীক্ষা করা মাধ্যমে কোভিড-১৯ মোকাবিলার সক্ষমতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

তিনি বলেন,  আমি বুঝতে পেরেছি যে আরও বেশি পরীক্ষার ফলে অধিক সংক্রমণের ফলে আরও বেড়ে যাওয়ার আশংকা পুঁজি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চিকিৎসা সেবা আরও জোরদার করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সেবা আক্রান্ত রোগীদের দেয়া হয়েছে। যেখানে বিশ্বের মৃত্যুর হার ৬.১ শতাংশ সেখানে আমাদের মৃত্যুর হার ১.৬ শতাংশ করতে সক্ষম হয়েছি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ১.৫ বিলিয়ন রিঙ্গিত ব্যয়ে স্বাস্থ্য সেবার সমস্ত উপকরণ, টেস্ট কিট, ভেন্টিলেটর, পর্যাপ্ত, ঔষধ, পারসোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট (পি'পি'ই) এর পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত সহ সকল
ধরনের করোনা প্রতিরোধী যন্ত্রপাতির ব্যবহার সুনিশ্চিত করা হয়েছে।

 আসিয়ানের সমস্ত বন্ধু দেশগুলোকে এইসব সমস্যা মোকাবিলায় একসাথে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানাই পাশাপাশি এই সমস্যা মোকাবিলায় যারা টেস্ট কিট,মাস্ক, পিপিইসহ বিভিন্ন আসিয়ানকে সহায়তা করেছে তাদের ধন্যবাদ জানাই ও সবসময় পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করি।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া ও জনগণের ব্যবসায়ের উপর কোভিড-১৯ এর প্রভাব নিরসনে ২৬০ বিলিয়ন রিঙ্গিত (৬৪.৬বিলিয়ন ডলার) এর প্রনোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।  মূল্যমানের তিনটি উদ্দীপনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। তিনি বলেছিলেন যে এই উদ্দীপনা প্যাকেজগুলির মাথাপিছু জিডিপি ১৮% শতাংশ রয়েছে যার মধ্যে কিছু ঋন পরিশোধে মুলতুবি, মজুরি ভর্তুকি, নগদ প্রদান এবং আগামী কয়েক মাস মালয়েশিয়ানদের জন্য বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এই কৌশলগুলি মালয়েশিয়াকে কেবল কোভিড-১৯ প্রতিরোধে আগামী কিছু সময় কাটাতে সহায়তা করবে। এটি একটি

আসিয়ান অঞ্চলের মহামারী পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা হওয়া দরকার এবং যা  মালয়েশিয়া একা এটি করতে পারবেনা বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন যে, প্রতিটি সঙ্কটের মধ্যে একটি সুযোগ রয়েছে এবং মালয়েশিয়া প্রত্যাশা করেছে যে, আসিয়ান একটি আঞ্চলিক ব্লক হিসেবে কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে যাতে কেউ যাতে পিছনে না থেকে যায়। তার উদ্বোধনী বক্তব্যের আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যে মহামারীটির সময়োপযোগী এবং কার্যকর প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য একটি সুসংহত, বহু-বিভাগীয়, বহু-অংশীদারমূলক অংশগ্রহণ পুরো আসিয়ানের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ্ধতি।

এই যুদ্ধ একটি অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে এবং এর পরিণতিতে বিশ্ব পাবে একটি নতিন প্রাকৃতিক দৃশ্য। পৃথিবী আর কখনো একই রকম হবেনা এবং বিশ্ব যে আদেশ দিতে যাচ্ছে, তা আমরা আসিয়ানরা নিজেদের মধ্যে মানিয়ে নিতে হবে। এটা সহজ বিষয়। নতুন সাধারণ বিষয়। মালয়েশিয়া গভীরভাবে উদ্বিগ্ন যে,  আমাদের আসিয়ান অঞ্চলে করোনা পরিস্থিতির অস্বাভাবিক আক্রান্তের হার গত কয়েক সপ্তাহে খুব দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিশ্ব পরিস্থিতি যতটা খারাপ ততটা নয়।

 আমি আত্মবিশ্বাসী যে সংহতি, সুদৃষ্টি ও নেতৃত্বের সাথে আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারি এবং এই অন্ধকার সময়গুলো একসাথে কাটিয়ে উঠতে পারি। আসিয়ান অঞ্চল হিসাবে আমরা এর আগেও একাধিক সঙ্কটের মুখোমুখি হয়েছি এবং আমি বিশ্বাস করি, আমরা আবারও এটিকে কাটিয়ে উঠব এবং আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী হয়ে উঠব।  যদি আল্লাহ চায়, ইন শা আল্লাহ।

No comments

Theme images by Dizzo. Powered by Blogger.