মালয়েশিয়াতে বৈধ ভিসা থাকলেও ইমিগ্রেশন ফাঁদে গ্রেফতার হতে পারেন আপনিও! পড়ুন বিস্তারিত

মালয়েশিয়ায় বর্তমানে চলছে ভিন্ন এক পরিস্থিতি।  সারাবিশ্বে বাংলাদেশের শ্রমবাজার গুলোর দিকে তাকালে মালয়েশিয়ার বর্তমান অবস্থা বিভিন্ন দিক একেবারেই ভিন্ন চিত্র চোখে পড়বে সবার। মালয়েশিয়াতে বৈধ ভিসা থাকলেও আপনিও গ্রেফতার হতে পারেন, পড়তে পারেন বড় ধরনের ঝামেলায়।

কিন্তু কেন? ভিসা থাকলেও আমি কেন গ্রেফতার হব? এই প্রশ্নটি নিশ্চয়ই আপনার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে, আসুন পর্যায়ক্রমে জেনে নেই বিস্তারিত। তবে এই লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়বেন আর না পড়লে অনেক দরকারী তথ্যগুলো অজানাই থেকে যাবে৷

মালয়েশিয়ার বর্তমান চিত্রঃ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিরলস প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়া করোনা পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিদেশি শ্রমিক বসবাসকারী এলাকা গুলোর দিকে নজর দিয়েছে এই ২টি মন্ত্রণালয়। একের পর এক চিহ্নিত এলাকায় অভিবাসী কর্মীদের আক্রান্তের ঝুঁকি বেশি ও কিছু পরিমাণ আক্রান্ত হলেই সাথে সাথে বর্ধিত গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ আদেশ (EMCO) জারি করা হচ্ছে পাশাপাশি দেয়া হচ্ছে কাঁটাতারের বেড়া।

চারিপাশে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে বাড়ানো হচ্ছে কড়া নজরদারি যাতে ওই এলাকা থেকে কেউ পালিয়ে যেতে না পারে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মীরা এসে সবাইকে একে একে করোনা টেস্ট এর জন্য নমুনা সংগ্রহ করার মাধ্যমে সকল তথ্য নিয়ে নেয়। এই তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করে ইমিগ্রেশন ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত হয়ে যায় এলাকাটিতে কতজন বৈধ অভিবাসী কর্মী ও কতজন আনডকুমেন্টেড বা অবৈধ অভিবাসী রয়েছেন।

চারিপাশে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে বাড়ানো হচ্ছে কড়া নজরদারি যাতে ওই এলাকা থেকে কেউ পালিয়ে যেতে না পারে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মীরা এসে সবাইকে একে একে করোনা টেস্ট এর জন্য নমুনা সংগ্রহ করার মাধ্যমে সকল তথ্য নিয়ে নেয়। এই তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করে ইমিগ্রেশন ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত হয়ে যায় এলাকাটিতে কতজন বৈধ অভিবাসী কর্মী ও কতজন আনডকুমেন্টেড বা অবৈধ অভিবাসী রয়েছেন।

সেই অনুযায়ী এই এলাকা থেকে কতজন গ্রেফতার হবে তা নির্ধারণ করে তাদেরকে রাখার জায়গাটা অগ্রিম ঠিক করা হয়। করোনা টেস্ট এর ফলাফল অনুযায়ী আক্রান্ত রোগীদের আলাদা করার পরই হঠাৎ ইমিগ্রেশন বিভাগ থেকে মালয়েশিয়ার অন্যান্য বাহিনী ও সংস্থাগুলোর সদস্যদের সাথে নিয়ে দেয়া হয় পূর্বপরিকল্পিত অভিযান। পুরো এলাকার সকল অভিবাসী কর্মীদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয় দিন ভর। তারপর কাগজপত্র বা ভিসাবিহীন অবৈধ অভিবাসীদের পাশাপাশি গ্রেফতার করা হয় বৈধ ভিসা বহনকারী অভিবাসীদের।

এর পর সবাইকে নিয়ে পুর্ব নির্ধারিত অস্থায়ী ক্যাম্পে বা ইমিগ্রেশন ডিপোতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ম অনুযায়ী ১৪ দিন ডিটেনশনে রাখার পর শুরু হয় আইনি প্রক্রিয়া। সমস্ত প্রমান ও পূর্বের অপরাধ রেকর্ড অনুযায়ী বিচারকার্য শেষ করা হয়। বিচারে একেক জনের একেক রকমের সাজা হয়।

ভিসা থাকলেও কেন গ্রেফতার করছে ইমিগ্রেশন?
আপনার ভিসা বা আই কার্ডে উল্লেখিত ঠিকানা অনুযায়ী আপনাকে প্রাথমিক যাচাই করে ইমিগ্রেশন।  অর্থাৎ ভিসায় দেয়া প্রদত্ত কোম্পানির ঠিকানার আশেপাশের অঞ্চলেই আপনাকে অবস্থান করতে হবে। আপনার কোম্পানি ঠিকানা দেয়া আছে জোহর বাহরু আর আপনি কাজ করছেন কুয়ালালামপুরে অথবা ঠিকানা দেয়া আছে সেলাঙ্গর রাজ্যের শাহ আলমে কিন্তু ধরা আপনাকে চেক করছে জালান মসজিদ ইন্ডিয়াতে সেক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে আপনাকে গ্রেফতার করা হবে।

এর পরে আপনার কোম্পানির মালিক উপযুক্ত কাগজপত্র জমা দিয়ে আপনাকে ছাড়িয়ে নিতে হবে।
আর যদি আপনার কোম্পানিকে খবর পৌঁছাতে ব্যর্থ হন বা আপনার কোম্পানি যদি ইমিগ্রেশনে আপনাকে ছাড়িয়ে আনতে না যায় তাহলে পরবর্তী অবস্থা কি হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

কারা ইমিগ্রেশনে আটকের পর ছাড়া পাবেন নাঃ
আপনি মালয়েশিয়াতে আছেন, বৈধভাবে আছেন, একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির নামে ভিসাও আছে। কিন্তু আপনি ঐ কোম্পানিতে কাজ করেন না। অন্য কোম্পানিতে কাজ করেন যে কোম্পানির আপনার কোম্পানির ব্যবসায়ীক পার্টনারশিপ বা ইমিগ্রেশনের অফিসিয়াল নিয়ম অনুযায়ী কোন চুক্তি নেই অর্থাৎ আপনার কাজ করার পদ্ধতিটি বৈধ নয়। এই অবস্থায় আপনি আটক হবেন, তবে ভিসায় প্রদত্ত কোম্পানিকে অনেক ঝামেলা পোহাতে হবে আপনাকে ছাড়িয়ে আনতে।

এক কোম্পানির ভিসা লাগিয়ে অন্য কোম্পানিতে কাজ করাকে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বা অন্যান্য অফিসিয়াল সংস্থা গুলো ফ্রি বার্ড ভিসা বলে। আর আমরা এটা এজেন্ট ভিসা হিসেবেই চিনি। এজেন্ট ভিসায় যারা রয়েছেন তারা নিজেরাই জানেন এটা কি ধরনের সমস্যা। অনেকেই ঝামেলার সম্মুখীন হয়েছেন বারবার। বিগত রিহায়ারিং (MyEg, BM, IMAN) এর মাধ্যমে যারা বৈধ হয়েছে তাদের বেশিরভাগই অন্য কোম্পানিতে কাজ করেন। যা নিয়ম অনুযায়ী বৈধ নয়।

কেউ কেউ কোম্পানি থেকে পালিয়ে গিয়ে ভিসা করে নিচ্ছেন ইমিগ্রেশনের অসাধু কোন কর্মকর্তার মাধ্যমে, বা কোন এজেন্ট বা দালালদের মাধ্যমে। কিন্তু ইমিগ্রেশন আটক করলে এই একই উপায়ে ছাড়ানোর ব্যবস্থা না করতে পারলে থেকে যেতে হয় জেলে। অর্থাৎ ভিসা আছে ইমিগ্রেশন আটক করেছে বৈধ কোম্পানি না থাকায় দালালদের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিজেকে মুক্ত করা সব সময় সম্ভব হয়না। টাকা বা ভিসা থাকলেও আপনি যে সময় নিরাপদ এটার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবেনা।

সুতরাং মালয়েশিয়ায় নিশ্চিন্তে কাজ করতে হলে আপনাকে অবশ্যই বৈধ ভিসা নিয়ে বৈধ কোম্পানিতে কাজ করতে হবে৷ আশা করি আমার এত বড় লেখা ধৈর্য্য ও মনোযোগ সহকারে পড়েছেন, মূল বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।

No comments

Theme images by Dizzo. Powered by Blogger.