শ্রমিকদের দুর্ভাগ্য, আগামীকাল থেকে মালয়েশিয়ার কয়েকটি রাজ্যে পুনরায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু হচ্ছে না, বিস্তারিত পড়ুন

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব শ্রমিক দিবস উপলক্ষে শুক্রবার ১লা মে স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে সরাসরি ভাষন দিয়েছিলেন। তিনি তার ভাষনে মালয়েশিয়ায় থমকে যাওয়া  অর্থনীতির চাকা আবার পুনরায় চালুর পরিকল্পনারর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গুলোর বিষয়ে ব্যাখ্যা করেছিলেন৷

কিন্তু মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তানশ্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিনের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি মালয়েশিয়ার বেশ কয়েকটি রাজ্য। সরকারের ঘোষিত শর্তসাপেক্ষে মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার বাস্তবায়নে সিদ্ধান্ত অস্বীকার করে বর্তমানে চলমান মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার (MCO) রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে পাঁচটি রাজ্যে সকল অর্থনৈতিক খাত সমূহ খোলার ক্ষেত্রে তানশ্রী

মুহিউদ্দিনের আহ্বান উপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
পেরিকাতান ন্যাশনাল (পিএন) সারাওয়াক সরকার প্রথমদিক থেকেই প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছিল। সারাওয়াক বিপর্যয় পরিচালন কমিটি (এসডিএমসি) গতকাল ঘোষণা করেছিল যে রাজ্যে চলমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ আইন ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ আইন (সংক্রামিত স্থানীয় অঞ্চলের মধ্যে ব্যবস্থা) বিধিমালা ২০২০

এর অধীনে বিধিবিধানের পরিবর্তনগুলি খতিয়ে দেখে তারপর সিদ্ধান্ত নেবে। সারাওয়াক সরকার অর্থনীতির পুনরায় খোলার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তান শ্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিনের ঘোষণাকে পুরোপুরি সম্মান জানিয়েছে এবং পাশাপাশি রাজ্যে এম'সি'ও বা চলমান লকডাউন পুনর্বহাল রাখে।

উপ-মুখ্যমন্ত্রী দাতুক আমর ডগলাস উগাহ এম্বাস এক বিবৃতিতে বলেছেন যে, রাজ্য সরকার এই জাতীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রে এর প্রভাবগুলি নিয়ে গবেষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং কোন ক্ষেত্রগুলি খুলবে, কখন খুলবে এবং কোন মাত্রায় সেগুলো খুলতে দেওয়া হবে তা বিস্তারিত পর্যালোচনা করে দেখা হবে। রাজ্যের বর্তমান করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা হবে৷

সুতরাং এটা স্পষ্ট বুঝা যায় যে, রাজ্যে বিদ্যমান এম'সি'ওর অধীনে ব্যবসায় এবং সেখানকার বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিভিন্ন সেক্টরে সমীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুনরায় চালু হওয়া বন্ধ রয়েছে। আজকের আগে, পাকাতান হরপান রাজ্য সিবিওর বিরুদ্ধে সিদ্ধান্তে তার সারাওয়াকিয়ান প্রতিবেশী যোগ দিয়েছিল।

 মখ্যমন্ত্রী দাতুক সেরি শাফি আপডাল একটি সংক্ষিপ্ত প্রেস বিবৃতি দিয়ে বলেছেন যে, এর নাগরিকরা অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসের সংক্রমণের শিকার না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার সাথে সাথে কোভিড -১ p মহামারী প্রশমিত করার জন্য রাষ্ট্রের প্রচেষ্টা থেকে এই অবস্থান দাঁড়িয়েছে।

 এদিকে নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যও একই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। রাজ্যের বহু কোভিড-১৯ এর রেডজোন এবং এখনও ইমার্জেন্সি মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার বা জরুরী অবস্থা জারী করা অঞ্চলগুলো থেকে ই'এম'সি'ও তুলে নেয়া হয়নি। পাশাপাশি সংক্রমণের সম্ভাবনাও রয়েছে। নেগেরি সিম্বিলান এর রাজ্যসচিব দাতুক রাজালী আবদুল মালিক বলেছেন যে রাজ্য পুত্রাজায়ার সিদ্ধান্তকে পুরোপুরি সমর্থন জানিয়েছে তবে এখানে করোনা সংক্রমণের হার না নিয়ন্ত্রণ হওয়া পর্যন্ত অর্থনৈতিক ক্ষেত্রগুলো পুনরায় উন্মুক্ত করার উপযুক্ত নয়।

 নেগেরি সেম্বিলান রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে কেবল অনুমোদিত অর্থনৈতিক ক্ষেত্রগুলিকে পরিচালনা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং যে কোনও সামাজিক এবং ক্রীড়া কার্যক্রম এখনও নিষিদ্ধ।  রেস্তোঁরাগুলিতে কোনও ডাইন-ইন বা বসে খাওয়ার সুবিধা থাকবে না - কেবল ডেলিভারি, টেকওয়ে বা ড্রাইভের মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহ করা অব্যাহত থাকবে৷  রাজালী বলেন, ই'এম'সি'ও বা জরুরী মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার আরোপিত এলাকা যেমন সেন্ডায়ান, সেরেম্বান মার্কেট, বাহাউ মার্কেটের আবাসন অঞ্চল বা উচ্চ সংক্রমণের হার এবং নতুন সংক্রমণের হারের অঞ্চলগুলোতে কোনও ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অনুমতি পাবে না।

কেদাহ রাজ্য সরকার  রাজ্য মুখ্যমন্ত্রী দাতু সেরি মুখরিজ মহাথির বলেছিলেন যে পুত্রাজায়া কর্তৃক ঘোষিত শর্তসাপেক্ষে মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার বা সিএমসিও এর উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে কিনা তা দেখার জন্য মঙ্গলবারে বিশেষ সুরক্ষা কমিটি এ নিয়ে বৈঠক করে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করে দেখবে না হয় এম'সি'ও বা লকডাউন বহাল রাখবে৷

 এক বিবৃতিতে মুখরিজ বলেছেন, কর্তৃপক্ষ রাজ্যের গ্রিন জোন বা আক্রান্তের ঝুঁকিমুক্ত অবস্থা বজায় রাখতে এবং এই এলাকার নাগরিকদের ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, জনগণের নিরাপত্তা ও কল্যাণের ক্ষেত্রে কোনও আপস নেই।  নাগরিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা বাড়িতে থাকা চালিয়ে যান, সকল স্বাস্থ্যবিধি গ্রহণ করুন এবং সামাজিক দূরত্ব অনুশীলন করুন।
এই নিউজ গুলোও পড়তে পারেন

শ্রমিকদের সাথে নিয়ে নতুন ৩টি কৌশলের মাধ্যমে হবে মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নতি; প্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশনের নতুন ফাঁদ, পালানোর পথ নেই অবৈধদের। বিস্তারিত পড়ুন।

দুঃসংবাদঃ অবৈধ শ্রমিকদের চাকরি না দিতে কড়া হুশিয়ারি দিয়েছে কুয়ালালামপুর সিটি হল (DBKL)! বিস্তারিত


মালয়েশিয়ার প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর এবং ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত আরও তথ্য জানতে অভিবাসী কন্ঠ পেইজের সাথেই থাকুন 
https://www.facebook.com/ovibashi/



পুত্রাজায়ার ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করা আরেকটি রাজ্য হচ্ছে পাহাং (পেরিকাতান ন্যাশনাল নের্তৃত্বাধীন)। পাহাং রাজ্য সরকার প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে যে, অর্থনৈতিক খাত গুলো পুনরায় চালুর হবে কিনা তা আগামী ৮ই মে সিকিউরিটি টাস্কফোর্সের বৈঠকে আলোচনা করার পর জানানো হবে৷

মুখ্যমন্ত্রী দাতুশ্রী ওয়ান রোজদি ওয়ান ইসমাইল এক বিবৃতিতে বলেছিলেন যে, রাজ্যের সর্বশেষ কোভিড-১৯ পরিস্থিতি ভালোভাবে পর্যালোচনা করা হবে। আমাদের সাপ্তাহিক বৈঠকে আমাদের সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত বর্তমান এম'সি'ও বা লকডাউন বহাল রাখা হবে।

 একই সাথে সেলাঙ্গর এবং পেনাং উভয় রাজ্য সরকারই সি'এম'সি'ওতে পুত্রাজায়ার নেতৃত্ব অনুসরণ করবে কিনা তা নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও পর্যালোচনার পর
পেনাংয়ের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ আদেশ (এমসিও) বহাল থাকবে এবং ৮ই মে থেকে শর্তসাপেক্ষ গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ আদেশ (সিএমসিও) কার্যকর করা হবে বলে আজ পেনাংয়ের মুখ্যমন্ত্রী চৌ কন ইও ঘোষণা করেছেন।

পেনাংয়ের আইন প্রণেতারা বলেছেন পেনাংয়ে আগামীকাল থেকে শর্তসাপেক্ষে অর্থনৈতিক খাত গুলো পুনরায় চালু হবেনা তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী ধীরে ধীরে পরিচালনা করা হবে৷ শুধুমাত্র এম'সি'ওর শুরু থেকে যেসব কোম্পানি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অনুমতি পেয়েছিল তারাই পরিচালনা অব্যাহত রাখার অনুমতি পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, চলমান ৪র্থ ধাপের এম'সি'ও ১২ তারিখে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে তবে আমরা ৮ই মে থেকে নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করবো এবং ১২ই মে থেকে পুনরায় সকল গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা বানিজ্য ও শিল্প কারখানা ধীরে ধীরে চালু করবো।

তবে সেলাঙ্গর রাজ্যের সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।

No comments

Theme images by Dizzo. Powered by Blogger.