মালয়েশিয়ায় নতুন আইন, শ্রমিকদের হোস্টেল ব্যবস্থা ৩ মাসের মধ্যে উন্নত করার নির্দেশ মানবসম্পদ মন্ত্রীর।

মালয়েশিয়ার সকল কোম্পানি মালিক বা নিয়োগকর্তাদের আগামী ৩ মসের মধ্যেই তাদের বিদেশি কর্মীদের আবাসন বা হোস্টেল ব্যবস্থা যথাযথ উন্নত করার জন্য ৩ মাসের সময় দেয়া হয়েছে। ১ লা জুন থেকে আগস্টের মধ্যে শ্রমিকদের বসবাসের ব্যবস্থা সরকারের দেয়া নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে।

সরকার কর্তৃক ঘোষিত নতুন এই নির্দেশিকায় সকল সেক্টরের শ্রমিকদের এই আওতায় আনা হয়েছে। মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী এম সারাভানান জানিয়েছেন, আবাসন ও সুযোগ সুবিধার নূন্যতম মান সংশোধনী আইন অনুযায়ী ১লা জুন থেকে পেনিনসুলার মালয়েশিয়া এবং ফেডারেল টেরিটোরি অব লাবুয়ানে কার্যকর করা হবে। সহজ কথা পুরো মালয়েশিয়াতেই একই আইন কার্যকর করা হবে।

গত বুধবার (২৬শে মে), মানবসম্পদমন্ত্রী এম সারাভানান বলেছিলেন, নিয়োগকর্তাদের সরকার কর্তৃক নির্ধারিত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আগামী ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে। ১লা সেপ্টেম্বর থেকে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক তদারকি ও ব্যবস্থা নেয়া শুরু হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় দ্বারা সংশোধনী গুলো ২০১৮ সালের বিদেশি কর্মীদের আবাসন ব্যবস্থা নীতিমালা উন্নত সংস্করণ করা হয়েছে। অর্থাৎ ২০১৮ সালে শ্রমিকদের আবাসন বা হোস্টেল ব্যবস্থা নীতিমালা আরও উন্নত করা হয়েছে। যাতে শ্রমিকদের বসবাস এমনভাবে হয়ে যেখানে ভীড় বা দলবদ্ধ অবস্থান না থাকে।

সরকার নির্ধারিত নির্দেশিকা গুলোতে শ্রমিকদের নূন্যতম জীবনযাত্রার স্ট্যান্ডার্ড মান বজায় রেখে প্রাথমিক সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর উপাদানগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা কোম্পানি মালিকদের অবশ্যই অগ্রাধিকার দিতে হবে।

 বিদেশি শ্রমিকদের বসবাসের জায়গাগুলো দলবদ্ধভাবে আক্রান্তের সর্বোচ্চ ঝুঁকি হিসেবে রয়েছে। তিনি করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি আবাসান ইউনিট বা একটি রুমে গাদাগাদি বসবাস, নোংরা বাসস্থান, আবাসন ব্যবস্থাগুলোর সুনির্দিষ্ট কোন বিন্যাস নেই, রান্না ও খাবার ডাইনিং এর দুর্বল ব্যবস্থাপনা কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে যেতে সাহায্য করে।

শ্রমিকদের পরিচালনার বিষয়ে সম্প্রতি মালয়েশিয়া নানা সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন কারাগারে বন্দী অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে ১ সপ্তাহের ব্যবধানে ৩৮০ জনের বেশি আক্রান্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে  চলমান বিভিন্ন গ্রেফতার অভিযান থেকে আটককৃত অভিবাসীদের কারাগারে পাঠানোর পর এই সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।

No comments

Theme images by Dizzo. Powered by Blogger.