মালয়েশিয়ায় জুমার নামাজ পড়তে সকাল ১১ টা থেকে লাইনে দাঁড়ালেন মুসুল্লিরা। বিস্তারিত

কোভিড -১৯ এর সংক্রমণের প্রতিরোধে লকডাউন বা গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ আদেশ (MCO) প্রয়োগের ফলে তিন মাসেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আজ পুত্রাজায়ায় মসজিদ পুত্রাতে স্থানীয় জনগণ নামাজ পড়তে পেরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। তবে মুসল্লী সংখ্যা নির্ধারিত থাকায় বিদেশিদের নামাজ আদায়ের অনুমতি দেয়া হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে যে, মুসল্লীগণ মসজিদের প্রবেশের জন্য সকাল সাড়ে ১১টা থেকে  মসজিদের প্রবেশ পথের বাইরে সিরিয়াল বা লাইনে দাঁড়ান। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে মুসল্লীগণকে লাইনে থাকাকালীন অবস্থায় শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা এবং জীবাণুনাশক ব্যবহার করার মাধ্যমে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতি (এসওপি) মেনে চলতেও দেখা যায়।

 একটি মসজিদের মুখপাত্রের মতে, প্রায় এক হাজার মুসল্লীকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এবং নির্দেশনা অনুযায়ী মুসল্লীগণ বাসা থেকে অযু করে নামাজের জায়নামাজ সংগে নিয়ে এসেছিলেন।

পুচংয়ের তামান পুত্রা পেরদনার একটি প্রাইভেট কোম্পানির অবসরপ্রাপ্ত মোহাম্মদ নাগুইব আদনান (৬০) বলেছেন, তিনি খুবই খুশি কারণ তিনি ৩ মাস পর মসজিদে জামাতের সহিত জুমা আদায় করতে পেরেছেন। নাগুয়িবের মতে, তিনি সকাল ১১.৩০ মিনিটে নামাজ পড়ার জন্য প্রবেশ অনুমতি পেতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন কারণ তিনি প্রবেশের সুযোগ টি হাতছাড়া করতে চান না।

 তিনি বলেন, তার বাড়ি আশেপাশের কোন মসজিদে স্বল্প সংখ্যক মুসল্লীর অনুমতি থাকার কারণে দূর পথ পাড়ি দিয়ে তিনি পুত্রা মসজিদে এসেছেন এবং খুতবা ও নামাজের জামাতে অংশগ্রহণ করতে পেরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। গতকাল গণমাধ্যমে মসজিদটি খুলে দেয়ার বিষয়ে খবর প্রকাশ হয়েছিল তাই আমি সুযোগটি হাত ছাড়া করিনাই।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তানশ্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন তার বাসভবনের কাছাকাছি বুকিত দামান সারা এলাকার সায়্যিদিনা উমর আল খাত্তাব মসজিদে অন্যান্য সাধারণ মুসল্লীদের মতই নির্দিষ্ট ফর্ম পূরন, তাপমাত্রা পরীক্ষা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মসজিদে প্রবেশ করেছেন।

এদিকে আজ প্রধানমন্ত্রী অধিদফতরের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী, দাতুশ্রী ডক্টর জুলকিফলি মোহামাদ আল বাকরী বলেছেন,
মুসল্লীদের মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে রিকভারি মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার এর বিধিনিষেধ শিথিল করে 'নতুন সাধারণ' পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে।

 মালয়েশিয়ার কোভিড-১৯ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, ধীরে ধীরে সকল বিধিনিষেধ তুলে ফেলা হবে। সকল মসজিদ গুলোতে আগের মত করে নামাজ পড়ার অনুমতি দেয়া হবে। অভিবাসী কর্মী সহ অন্যান্য দেশের নাগরিকেরাও আবার আগের মত নামাজ পড়ার অনুমতি পাবে। তবে বর্তমানে অভিবাসী কর্মীদের মাঝে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণের ঝুঁকি থাকার ফলে অনুমতি দেয়া হয়নি।

No comments

Theme images by Dizzo. Powered by Blogger.