মালয়েশিয়ায় WRP হ্যান্ড গ্লোব ফ্যাক্টরি বন্ধ ঘোষণা, তীব্র বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক
প্রতিবেদকঃ মোঃ সারোয়ার হোসেন।
তারিখঃ ০৩/০১/২০২০
তারিখঃ ০৩/০১/২০২০
ক্ষতি হবে সবচেয়ে বেশি। কারণ তারা ৩-৪ লক্ষ টাকা খরচ করে গিয়েছেন যাদের বেশিরভাগের এখনো ২ বছর ও পার হয়নি। কি হবে শ্রমিকদের, কে নেবে এই হাজার হাজার শ্রমিকদের দায়িত্ব, কে দেবে তাদের এই ক্ষতিপূরণ। সেটাই এখন দেখার বিষয়। অনেক বাংলাদেশী শ্রমিকের মনে আতংক সৃষ্টি হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শ্রমিকদের কষ্ট মাখা স্ট্যাটাস লক্ষ্য করা গেছে।
সারাবিশ্বে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণে হ্যান্ড গ্লোব ব্যবহার হয়। আর এই হ্যান্ড গ্লোবের অন্যতম যোগানদাতা হচ্ছে মালয়েশিয়া। হ্যান্ড গ্লোব উৎপাদনে বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে এগিয়ে আছে মালয়েশিয়া। আমেরিকাসহ বিশ্বের অন্যতম দেশগুলোর নজর কেড়েছে মালয়েশিয়ায় তৈরি এই পন্যটি। প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন মার্কিন ডলারের হ্যান্ড গ্লোব রপ্তানি করছে মালয়েশিয়া যার অন্যতম দেশ হচ্ছে আমেরিকা। মালয়েশিয়ায় হ্যান্ড তৈরীকারক প্রতিষ্ঠান রয়েছে অনেক তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ও অন্যতম হচ্ছে
![]() |
| WRP ASIA Pacific Sdn Bhd banned by USA |
WRP ASIA Pacific Sdn Bhd. এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ ২ যুগের বেশি সময় ধরে অত্যন্ত সফলতার সাথে হ্যান্ড গ্লোব উৎপাদন ও রপ্তানি করে আসছে। এই প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশী, নেপালী, কম্বোডিয়ান, ইন্ডিয়ান এবং শ্রীলঙ্কানসহ হাজার হাজার শ্রমিক রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ
ঘটে যায় বিপত্তি, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে এই ফ্যাক্টরীতে দেখা দেয় শ্রমিক অসন্তোষ। মালিকপক্ষের উদাসীনতার কারণে শ্রমিকদের সাথে ঘটে যায় অঘটন। টানা ৩ মাস বেতন না দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ২০০০ হাজার নেপালী শ্রমিক ধর্মঘট ডেকে একটানা ৩ দিন কাজ বন্ধ করে দেয়। শ্রমিকদের অভিযোগ ছিল ৩ মাস বেতন আটকে রাখা, ওভার টাইমের টাকা না প্রদান করা, স্যালারি হিসেবে গড়মিল করা, নিম্নমানের খাবার ও বাসস্থান প্রদান করা, কর্মক্ষেত্রে ও হোস্টেল গুলো বস বা লিডারদের অমানবিক দুর্ব্যবহার এবং শ্রমিকদের উপর অত্যাচার করা। এসব অভিযোগে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হয় যা সারাবিশ্বে নিউজ প্রকাশিত হয়। পরে এই ঘটনার বিষয়ে আমেরিকার আমদানিকারক ও কাস্টমস বিভাগে জানাজানি হলে WRP ASiA Pacific এই কোম্পানিকে কালো তালিকাভুক্ত করে দেয়া হয় ও আমদানি বন্ধ করে দেয় আমেরিকা। শ্রমিকদের নায্য বেতন ও অন্যান্য সুবিধা দিতে ব্যার্থ হওয়ায় গত বছরের নভেম্বরে এই কোম্পানিকে নিষিদ্ধ করে আমেরিকা। কিন্তু এই কোম্পানির পক্ষ থেকে কোন কিছুই প্রকাশ করা হয়নি, শ্রমিকরা জানতোনা এমন কোন কিছু। পরে গত ৩০শে ডিসেম্বরে মালয়েশিয়ার পত্রিকায় প্রকাশিত হয় যে এই কোম্পানি অপারেশন সাসপেন্ড ও সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।


No comments