মিলিয়ন মিলিয়ন রিঙ্গিতের অনুদান, লকডাউনে অসহায় মালয়েশিয়া প্রবাসীদের উপকারে আসবে কি?

চলমান মহামারী সংকট নিরসনে মালয়েশিয়া সরকারের যেমন বিভিন্ন পদক্ষেপের কোন ঘাটতি নেই, তেমনি পিছিয়ে দেশটির বড় বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোও। কোভিড-১৯ তহবিলের জন্য একের পর এক অনুদান পেয়েই যাচ্ছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তান সেরি মুহিউদ্দিন ইয়াসিন।

মিলিয়ন রিঙ্গিতের অনুদান অসহায় কর্মীদের উপকারে আসবে কি?    (ছবিটি প্রতিকীরূপে ব্যবহৃত)      
গতকাল ৩০ শে মার্চ প্রধানমন্ত্রী তান শ্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন কোভিড-১৯ তহবিলের জন্য ছয়টি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৪.২৫ মিলিয়ন রিঙ্গিত নগদ অর্থ এবং  26 মিলিয়ন রিঙ্গিত বা ২ কোটি ৬০ লক্ষ রিঙ্গিত মূল্যমানের স্বাস্থ্য সরঞ্জাম পেয়েছেন। সেই সাথে প্রাপ্ত নগদ অর্থ ৪.২৫ মিলিয়নসহ কোভিড-১৯ তহবিলে এখন পর্যন্ত নগদ ১৪.২ মিলিয়ন রিঙ্গিত জমা হয়েছে বলে জানানো হয়। পারদানা পুত্রা ভবনে কর্পোরেট প্রতিনিধি কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী তান সেরি মহিদ্দিনের কাছে উক্ত অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী একের পর এক মূল্যবান অনুদান পেয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে এটা খুবই ভালো এবং প্রশংসার ব্যাপার। কিন্তু মালয়েশিয়াতে অবস্থানরত কয়েক লক্ষ বৈধ ও অবৈধ অভিবাসী শ্রমিক রয়েছে তাদের বিষয়ে কি সরকারের তরফ থেকে ভাবা হয়েছে? টানা একমাস লকডাউনের ফলে বেশিরভাগ কর্মীরা এখন দিশেহারা ও অসহায় হয়ে গেছেন। টানা লকডাউনের ফলে খাদ্য অভাবে ভুগছেন অনেকেই। বেশিরভাগ শ্রমিকদের কাছে নগদ অর্থ থাকেনা যাই বেতন পায় সামান্য কিছু হাতে সব দেশে দিয়ে দিতে হয়

 পরিবারের জন্য। কোম্পানিগুলোর কাজ বন্ধ তাই মাসের শেষদিকে পিনজাম বা ধার হিসেবে নেয়া টাকা তো থাক দূরের কথা সরকার ঘোষিত লকডাউনের সময় বেসিক বেতনটাও ঠিক মত পাবে কিনা তার কোন নিশ্চয়তা নেই। বেশিরভাগ কোম্পানিই চায়না লকডাউন সময়কালের বেতন শ্রমিকদের বুঝিয়ে দিতে।  এ নিয়ে পুরো মালয়েশিয়ার সকল দেশের শ্রমিকদের মধ্য উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার জন্ম নিয়েছে। আর অবৈধ অভিবাসীদের তো প্রতিটি পদে পদে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এই লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত অবৈধ অভিবাসীদের নিয়ে সরকার কি আদৌ মানবিক চিন্তা করেছে?

এই মহামারী সংকট থেকে মালয়েশিয়া সরকারকে বাঁচতে হলে শুধু নিজের দেশের জনগণ নয় দেশটিতে থাকা সকল অভিবাসীদের খাদ্য সংকট দূর করতে হবে, যারা খাবার সংকটে রয়েছেন তাদের সকলকেই অন্তত  বেঁচে থাকার জন্য খাদ্যের সরবরাহ দিতে হবে। এটাই লক্ষ শ্রমিকের প্রত্যাশা মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি।

উল্লেখ্য যে, গতকাল  যে সংস্থাগুলো অনুদান দিয়েছে তা হল  মালয়েশিয়ার বিখ্যাত গাড়ির কোম্পানি নাজা কর্পোরেশন হোল্ডিংস (sdn bhd), যার প্রতিনিধি ছিলেন গ্রুপের নির্বাহী চেয়ারম্যান এসএম নাসারউদ্দিন এসএম নাসিমুদ্দিন, তিনি ১.২৫ মিলিয়ন রিঙ্গিতের একটি মূল্যবান চেক প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। এছাড়াও পুনক নিয়াগা হোল্ডিংস বারহাদ নগদ ১ মিলিয়ন রিঙ্গিত এবং ২৮ টি ইউনিট শ্বাসযন্ত্রের মেশিন এবং 5 মিলিয়ন রিঙ্গিত সমমূল্যের হেমোডায়ালাইসিস মেশিন ইউনিট কোম্পানির নির্বাহী চেয়ারম্যান, তান শ্রী রোজালী ইসমাইল প্রধানমন্ত্রীর নিকট প্রদান করেন।

আরও পড়তে পারেন
👇
কয়েক লক্ষ শ্রমিকের জীবন ঝুঁকিতে, একই রুমে গাদাগাদি অবস্থা, করোনার ঝুঁকি নিয়ে কাজে যেতে বাধ্য করছে অনেক কোম্পানি।
👇
মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ঃ শ্রমিকদের বেতন প্রস্তুত করতে দুইজন এইচ'আর কর্মকর্তাকে অফিসে যাওয়া নির্দেশ।
👇
কোম্পানি মালিকদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিলেই ব্যবস্থা নেবে মানবসম্পদ মন্ত্রী এম সারাভানান
👇
মালয়েশিয়ার লকডাউন অর্ডার আরও বাড়ানো হবে কিনা তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া খুবই জরুরীঃ নুর হিশাম আব্দুল্লাহ

ই-ইদামান ১ মিলিয়ন, গাড়ি আমদানিকারক ব্যবসায়ী এসোসিয়েশন পেবেমা ৫ লক্ষ রিঙ্গিত, লিওং হুপ ইন্টারন্যাশনাল ২টি শ্বাসপ্রশ্বাসের ইউনিট এবং নগদ ৫ লক্ষ রিঙ্গিত, এইজ মিডিয়া গ্রুপ প্রায় ২১ মিলিয়ন রিঙ্গিত সমমূল্যের মেডিকেল সরঞ্জামাদি প্রদান করেন। এসব অনুদান দেয়ার পরে গণমাধ্যমের সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিগন বলেন এখন সময় এসেছে দেশের জনগণের কল্যাণের তহবিলে নগদ অর্থ ও চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম প্রদান করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার। বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এভাবে এগিয়ে আসতে হবে, দেশ রক্ষার যুদ্ধে সবাইকে অংশগ্রহণ করতে হবে।

উল্লেখ্য যে, করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তার লক্ষ্যে সরকারী প্রচেষ্টা হিসাবে ১১ মার্চ কোভিড -১৯ তহবিল চালু করা হয়েছিল।

No comments

Theme images by Dizzo. Powered by Blogger.