মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য উপমন্ত্রীসহ ১৩ জনকে ১০০০ রিঙ্গিত জরিমানা করেছে আদালত, বিস্তারিত

মালয়েশিয়ার উপমন্ত্রী (স্বাস্থ্য) দাতুক ডাঃ নূর জালী দু'সপ্তাহ আগে একটি অফিসিয়াল সফরে গিয়ে দলবদ্ধ হয়ে ভোজে অংশ নিয়ে মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার বা গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ আদেশের (এম'সি'ও) লঙ্ঘনের দায়ে

আজ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সর্বোচ্চ ১ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা করেছে। ম্যাজিস্ট্রেট নুর হিদায়াতি মোহাম্মদ নসরোহ একই অভিযোগে পড়ে শোনানোর পর পেরাক শিক্ষা, হিউম্যান ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট কমিটি, এনজিও এবং সিভিল সোসাইটি রাজ্জামান জাকারিয়া এবং আরও ১৩ জন তাদের দোষ স্বীকার করে নেয়ার পর  ১ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা দেয়ার রায় শুনানি করা হয়। ডাঃ নূর আজমী( ৫৯), রাজমান জাকারিয়া (৬০) এবং স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী নূর আজমান (৫৭) বিরুদ্ধে

সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছিল। যেখানে উপমন্ত্রী তার টিম নিয়ে আক্রান্ত এলাকায় সামাজিক সভা ও সহায়তা মুলক মিটিংয়ে গিয়েছিলেন। একই আইনে  ১১ (১) এর অধীনে দণ্ডবিধির ৩৪ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা বা ছয় মাসের জেল অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করার বিধান রয়েছে।

 নুরহদায়াতি বলেছিলেন যে আসামির নামাজ আদায় করা এবং স্থানীয় নাগরিকদের মাঝে মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করতে গিয়ে আইন লংঘন হয়েছে তাই প্রথম অপরাধের জন্য ১ হাজার রিঙ্গিত জরিমানাই যথেষ্ট ছিল। আদালত লোকজনের গনজমায়েত হওয়ার উদ্দেশ্য আমলে নিয়েছে কারণ এটি একটি অলাভজনক এবং জনসাধারণকে সাহায্য করার একটি কার্যক্রম ছিল যা করতে গিয়ে চলমান মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার আইনের লঙ্ঘন হয়েছে। এতে করে প্রাদুর্ভাব আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ারও সম্ভাবনা ছিল।

আদালত শুনানির শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে ডাঃ নুর আজমি তারবেই অনিচ্ছাকৃত ভুলে জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থা অনুসরণ করে চলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন যে, আগামীতে এইসব বিষয়ে আমি আরও সতর্ক থাকব এবং আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ পালনের মাধ্যমে দেশবাসীকে স্বাস্থ্যসেবাগুলো প্রদান করতে সচেষ্ট থাকব৷

উল্লেখ যে, ঘটনার পরদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি সমালোচনার মুখে পড়ার পর প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মন্ত্রী দাতু তকিউদ্দিন হাসান বলেছিলেন যে, মন্ত্রীরা কোভিড -১৯ এর  সাথে সম্পৃক্ত ইস্যুগুলি নিয়ে প্রতিদিন আলাপ আলোচনার সাক্ষাৎ করেন, বিভিন্ন সভায় যোগ দেন। সভাগুলোর পরে কিছু

আরও সামাজিক বিশ্লেষণ ও সামাজিক জরিপসহ বিভিন বিষয় চেক করার প্রয়োজন পড়ে।
উদাহরণস্বরূপ, একজন মন্ত্রীর সফরের মধ্যে এমন মতামতের বিষয় ও সংক্ষিপ্তসার জড়িত যা অবশ্যই অনুসন্ধান করা উচিত করা উচিত বলে জানান তিনি।

তিনি সাংবাদিকদের আরও বলেন, কোতা ভারু অঞ্চলের কোতা দারুল নাইম কমপ্লেক্সে মন্ত্রী দাতুক আহমদ ইয়াকুবের সভাপতিত্বে প্রাদেশিক পর্যায়ের জাতীয় সুরক্ষা কাউন্সিলের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

একজন উপমন্ত্রী চলমান মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার এর নিয়ম পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছিল একটি কার্যকরী সফরের পর মন্ত্রীসহ আরও অনেক লোক একসাথে জড়ো হয়ে সামাজিক দুরত্ব বজায় না রেখে খাওয়া দাওয়া করতে দেখা গেছে। যা বর্তমানে মালয়েশিয়ার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে ভাইরাল হয়েছে এবং দেশের সাধারণ জনগণ এটা নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করতে দেখা গেছে৷

No comments

Theme images by Dizzo. Powered by Blogger.