সিঙ্গাপুরে অভিবাসী কর্মীরা ফ্রী খাবার গুলো কেন ডাস্টবিনে ফেলে দিচ্ছেন? বিস্তারিত
সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে সরকার লকডাউন চলাকালীন সময়ে কর্মীদের প্রতিদিন বিনামূল্যে খাবার দিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে কিছু কিছু খাবার কর্মীরা খেতে পারেনা বলে ফেলে দিচ্ছে যা নিয়ে স্থানীয় নাগরিকেরা করছেন নানা রকম আলোচনা সমালোচনা। ফেলে দেয়া খাবারের ছবি গুলোর পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নেটিজেনদের মাঝে সমালোচনার ঝড় বইছে।
কেন অভিবাসী কর্মীরা বিভিন্ন ভেন্ডর বা ক্যাটারিং সার্ভিসগুলোর এসব খাবার ফেলে দিচ্ছেন?
আসুন জেনে নেই......
ভৌগলিক অবস্থানের পার্থক্যের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লোকদের খাওয়ার অভ্যাসে রয়েছে ভিন্নতা। যেমনটি একই দেশের বিভিন্ন জেলায় বা বিভিন্ন প্রদেশে বিভিন্ন রকমের রান্না এবং খাবারগুলো ভিন্ন সংস্কৃতি বা নিজস্ব ঐতিহ্যের কারণেই আলাদা হতেই পারে।
ঐতিহ্যের দিকে দিয়ে অঞ্চল বা রাষ্ট্র ভেদে কারো প্রধান খাদ্য ভাত-মাছ, কারো রুটি, কারো আবার নুডুলস। রান্নার দিক দিয়ে আবার কেউ কেউ অর্ধেক রান্না করা বা আধা সিদ্ধ খাবার খেতে পছন্দ করেন আবার কেউ পুরোপুরি সিদ্ধ, কেউবা আবার একই জিনিস কাঁচা খেতে ভালোবাসেন।
প্রতিটি খাবারে স্বাদ অঞ্চল এবং দেশ এবং সংস্কৃতির খাদ্যাভাসের উপর নির্ভর করে। দীর্ঘ সময় ধরে একই ধরনের খাবার খাওয়ার অভ্যাসের কারণে হঠাৎই অন্য অঞ্চলের, দেশের বা অন্য জেলার ভিন্ন রকম খাবার খেতে না পারাটা অবাক হওয়ার মত কিছুইনা।
তবে যারা আবার বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করতে হয় বা কাজের জন্য বিভিন্ন জায়গায় বারবার হয় তারা নিজেদের ঐতিহ্যগত খাবারের বাইরে বিভিন্ন ধরণের খাদ্যাভাসে অভ্যস্ত হতে পারেন তবে এক্ষেত্রে খাদ্যের অভ্যাসটি মানিয়ে নিতে বা সামঞ্জস্য করতে সময়ের প্রয়োজন হয় সুতরাং কেউ হঠাৎই তাদের খাদ্যাভাস পরিবর্তন করতে পারে না। ধীরে ধীরে একজন মানুষকে নতুন পরিবেশে থাকতে থাকতে নতুন স্বাদ বা নতুন ধরনের খাবারের সাথে মানিয়ে নিতে হয়।
অন্যথায় হঠাৎই জোরপূর্বক খেতে গেলে এটি মানুষের জীবনে শারীরিক সমস্যা, বদহজম এবং মানসিক সমস্যা তৈরী করবে। খাবারের অভ্যাসটি পরিবর্তন করা সহজ নয় যার উপর মানুষের মানুষের জীবন এটি নির্ভর করে। দীর্ঘ সময়ের অভ্যাসগত খাবার শারীরিকভাবেই মানানসই এবং ভারসাম্যপূর্ণ বজায় রাখতে পারে।
সিঙ্গাপুরে করোনার ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পরে সরকার সার্কিট ব্রেকার বা লকডাউন করার ঘোষণা দিয়েছে। একই সাথে সরকার ঘোষণা করেছে যে সমস্ত শ্রমিকদের ছাত্রাবাসে থাকার সময় তাদের বেতন দেওয়া হবে এবং তাদের খাবার সরবরাহ করা হবে। এই বিশাল সংখ্যক শ্রমিককে খাবার সরবরাহ করতে কিছু সমস্যা হবে এটাই স্বাভাবিক তবুও, সরকার এই দিক থেকে সফল যা অতি প্রশংসনীয়।
বাংলাদেশী ও ভারতীয়রা ভাতের সাথে মশলাদার ও ঝালযুক্ত তরকারি খেতে পছন্দ করেন। তবে তাদের খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে তাদের কোনওভাবেই জাতীয়তা হিসাবে বিবেচনা করা হয়নি। বিভিন্ন ক্যাটারিং বা ভেন্ডরদের মাধ্যমে অনেক শ্রমিককে অল্প ভাতের সাথে আধা সিদ্ধ বা অল্প রান্না করা শাকসবজি দেওয়া হয়েছে যা তাদের খাওয়ার অভ্যাস নেই। তবে আমি এই খাবারগুলির গুণমান বা পুষ্টির মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছি না এবং এ সম্পর্কে আমার কোনও সন্দেহ নেই। তবে বাংলাদেশি এবং ভারতীয়রা এই খাবারগুলি খেতে অভ্যস্ত নন এবং অনেকে এগুলি ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছেন।
আমার বেশিরভাগ অভিবাসী ভাই ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপে এই "ডাস্টবিনে খাবারগুলির" ফটো আপলোড করেছেন এবং সে সম্পর্কে অভিযোগ করেছেন।
কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে করা সেই পোস্ট গুলোতে বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে মন্তব্য করেছেন অনেকের মন্তব্য শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণের ইঙ্গিত দেয়। আবার অনেকেই বলছেন সারাবিশ্ব বর্তমানে সংকটে রয়েছে। আপনি ভাবুন আপনাকে যদি এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কিংবা ভারতে থাকতে হয়, প্রতিদিনের দেয়া খাবার গুলো ঝালযুক্ত তরকারি, মাছ ও মসলাদার ঝোলের সংমিশ্রণে খেতে দেয়া হয় আপনি কি হঠাৎই খেতে পারবেন? ২-৩ লোকমা খাওয়ার পর নিশ্চয়ই আর গলা দিয়ে নামবেনা। তখন আপনার হাত লাগানো খাবার গুলো অন্য কেউ এসে খাবে? অবশ্যই ফেলে দিতে হবে। আপনি যতই ক্ষুদার্ত থাকুন না কেন তবে ধীরে ধীরে জীবনের তাগিদে খাওয়ার অভ্যাস হয়ে যাওয়াটাই মানুষের অভ্যাসগত জীবনপ্রবাহের অংশ।
অনেক সময় আমাদের পছন্দ-অপছন্দ সম্পর্কে চিন্তা না করে পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয় এবং জীবনের তাগিদে সময়ের প্রবাহে টিকে থাকতে হয়। কখনও কখনও পছন্দ করার সুযোগ নেই। প্রত্যেকেরই নিজস্ব চিন্তার জগত রয়েছে, অন্যের সাথে তাল মিলিয়ে চলার দরকার নেই তবে আপনার মতামত যদি অন্যের চেয়ে ভাল মনে হয় তবে আপনি তাদের সাথে তর্ক করতে পারেন এক্ষেত্রে তার সাথে আপত্তিকর আচরণ অবশ্যই করবেন না। এটি করার অধিকারও আপনার নেই।
সিঙ্গাপুর একটি বহুজাতিক দেশ যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লোকেরা এসে কাজ করে, জীবিকা নির্বাহ করে এবং প্রচুর সংখ্যক পর্যটক হিসেবে থাকে। তাই এখানে বিভিন্ন ধরণের খাবার রয়েছে, এখানে অনেক জাপানি, ইতালিয়ান, কোরিয়ান, ইন্দোনেশিয়ান, মালয়েশিয়ান এবং অনেক রেস্তোঁরা রয়েছে। তবে সিঙ্গাপুরিয়ানরা প্রায় সব ধরণের খাবার খেতে পারে যা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
তবে অনেক অভিবাসী কর্মী সিঙ্গাপুরে 10 থেকে 12 বছর অতিবাহিত করার পরেও বিভিন্ন ধরণের খাদ্যের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারেননি। আপনি হয়তো প্রশ্ন করবেন এতদিন সিঙ্গাপুরে বসবাস করেও কীভাবে সম্ভব এবং আপনি অবশ্যই ভাবছেন? আশ্চর্যের বিষয় হল, ভোর পাঁচটায় ঘুম থেকে ওঠা, রাত আটটায় কাজ থেকে ফিরে, গোসল করা, কাপড় ধোয়া এবং ঘর পরিষ্কার করা, এই সমস্ত কিছু করতে করতে ঘুমের সময় হয়ে যায়। পরদিন ভোরে আবারও নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।
ছুটির দিনেও কত শ্রমিক ওভার টাইম হিসেবে কাজ করে তার কোনও হিসাব নেই। অনেকেই ভাবেন যদি ওভারটাইম না হয় বা না করতে পারেন তবে তিনি এই মাসের জন্য বাড়তি উপার্জন করতে পারবেন না।
বেশিরভাগ শ্রমিকের ডরমিটরি বা হোস্টেল গুলো প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত। যার ফলে বিভিন্ন খাবারের স্বাদ গ্রহণের জন্য ফুড কোর্টে যাওয়ার সামর্থ রাখেন না। বা অনেকেই অতিরিক্ত ব্যয় থেকে বাঁচতেও রেস্টুরেন্টে গিয়ে ভিন্ন স্বাদের খাবার খান না।
যার ফলে তারা এখানে ১০-২০ থাকলেও এমন খাবারে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারবে না এবং শ্রমিকরা খাপ খাইয়ে নিতে পারে না বলে আপনি মন্তব্য করবেন এমন খাবার খেতে না পারলে তারা তাদের নিজ দেশে ফেরত চলে যাক। শ্রমিকরা যদি পারত তাদের দেশে ফিরে যেতে তাহলে এখানে বাধ্যগত জীবনের সাথে যুদ্ধ করে যেতনা। চিন্তা করেন দেখুন, হঠাৎই এমন খাবারের অভ্যাস বা এসব ভিন্ন খাবারের অভ্যাস বা ভিন্ন স্বাদের খাবারের সাথে খাপ খাওয়ানোর কোন সুযোগ ছিল?
সন্দেহ নেই যে সিঙ্গাপুর সরকার করোনার পরিস্থিতি মোকাবেলায় পর্যাপ্ত উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিটি কর্মীকে মানসম্পন্ন চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। ছাত্রাবাসে থাকার পরেও বেতন নিশ্চিত করা হচ্ছে। আমরা এর জন্য অবশ্যই সিঙ্গাপুর সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। সরকার ছাড়াও অনেক এনজিও এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শ্রমিকদের পক্ষে এসেছেন, তাদের মধ্যে কয়েকটি স্বতন্ত্রভাবে সহায়তাও করছেন। আশা করি, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা খুব শীঘ্রই এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হব।
সিঙ্গাপুরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তারের পরে সরকার সার্কিট ব্রেকার বা লকডাউন করার ঘোষণা দিয়েছে। একই সাথে সরকার ঘোষণা করেছে যে সমস্ত শ্রমিকদের ছাত্রাবাসে থাকার সময় তাদের বেতন দেওয়া হবে এবং তাদের খাবার সরবরাহ করা হবে। এই বিশাল সংখ্যক শ্রমিককে খাবার সরবরাহ করতে গেলে কিছু সমস্যার সৃষ্টি হবে এটাই স্বাভাবিক তবুও সিঙ্গাপুর সরকার এই দিক থেকে সফল। শ্রমিকদের দুঃসময়ে পাশে দাড়িয়েছে, সর্বোচ্চ সহোযোগিতা করছে। তবে মানুষের জীবনযাত্রার সাথে গড়ে ওঠা খাবারের অভ্যাসের পরিবর্তন খুব সহজ বিষয় নয়।
ক্রেডিটঃ
Migrant Workers Singapore Facebook
রিপন চৌধুরী
কেন অভিবাসী কর্মীরা বিভিন্ন ভেন্ডর বা ক্যাটারিং সার্ভিসগুলোর এসব খাবার ফেলে দিচ্ছেন?
আসুন জেনে নেই......
ভৌগলিক অবস্থানের পার্থক্যের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লোকদের খাওয়ার অভ্যাসে রয়েছে ভিন্নতা। যেমনটি একই দেশের বিভিন্ন জেলায় বা বিভিন্ন প্রদেশে বিভিন্ন রকমের রান্না এবং খাবারগুলো ভিন্ন সংস্কৃতি বা নিজস্ব ঐতিহ্যের কারণেই আলাদা হতেই পারে।
![]() |
ক্রেডিটঃ
|
ঐতিহ্যের দিকে দিয়ে অঞ্চল বা রাষ্ট্র ভেদে কারো প্রধান খাদ্য ভাত-মাছ, কারো রুটি, কারো আবার নুডুলস। রান্নার দিক দিয়ে আবার কেউ কেউ অর্ধেক রান্না করা বা আধা সিদ্ধ খাবার খেতে পছন্দ করেন আবার কেউ পুরোপুরি সিদ্ধ, কেউবা আবার একই জিনিস কাঁচা খেতে ভালোবাসেন।
প্রতিটি খাবারে স্বাদ অঞ্চল এবং দেশ এবং সংস্কৃতির খাদ্যাভাসের উপর নির্ভর করে। দীর্ঘ সময় ধরে একই ধরনের খাবার খাওয়ার অভ্যাসের কারণে হঠাৎই অন্য অঞ্চলের, দেশের বা অন্য জেলার ভিন্ন রকম খাবার খেতে না পারাটা অবাক হওয়ার মত কিছুইনা।
তবে যারা আবার বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করতে হয় বা কাজের জন্য বিভিন্ন জায়গায় বারবার হয় তারা নিজেদের ঐতিহ্যগত খাবারের বাইরে বিভিন্ন ধরণের খাদ্যাভাসে অভ্যস্ত হতে পারেন তবে এক্ষেত্রে খাদ্যের অভ্যাসটি মানিয়ে নিতে বা সামঞ্জস্য করতে সময়ের প্রয়োজন হয় সুতরাং কেউ হঠাৎই তাদের খাদ্যাভাস পরিবর্তন করতে পারে না। ধীরে ধীরে একজন মানুষকে নতুন পরিবেশে থাকতে থাকতে নতুন স্বাদ বা নতুন ধরনের খাবারের সাথে মানিয়ে নিতে হয়।
অন্যথায় হঠাৎই জোরপূর্বক খেতে গেলে এটি মানুষের জীবনে শারীরিক সমস্যা, বদহজম এবং মানসিক সমস্যা তৈরী করবে। খাবারের অভ্যাসটি পরিবর্তন করা সহজ নয় যার উপর মানুষের মানুষের জীবন এটি নির্ভর করে। দীর্ঘ সময়ের অভ্যাসগত খাবার শারীরিকভাবেই মানানসই এবং ভারসাম্যপূর্ণ বজায় রাখতে পারে।
সিঙ্গাপুরে করোনার ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পরে সরকার সার্কিট ব্রেকার বা লকডাউন করার ঘোষণা দিয়েছে। একই সাথে সরকার ঘোষণা করেছে যে সমস্ত শ্রমিকদের ছাত্রাবাসে থাকার সময় তাদের বেতন দেওয়া হবে এবং তাদের খাবার সরবরাহ করা হবে। এই বিশাল সংখ্যক শ্রমিককে খাবার সরবরাহ করতে কিছু সমস্যা হবে এটাই স্বাভাবিক তবুও, সরকার এই দিক থেকে সফল যা অতি প্রশংসনীয়।
বাংলাদেশী ও ভারতীয়রা ভাতের সাথে মশলাদার ও ঝালযুক্ত তরকারি খেতে পছন্দ করেন। তবে তাদের খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে তাদের কোনওভাবেই জাতীয়তা হিসাবে বিবেচনা করা হয়নি। বিভিন্ন ক্যাটারিং বা ভেন্ডরদের মাধ্যমে অনেক শ্রমিককে অল্প ভাতের সাথে আধা সিদ্ধ বা অল্প রান্না করা শাকসবজি দেওয়া হয়েছে যা তাদের খাওয়ার অভ্যাস নেই। তবে আমি এই খাবারগুলির গুণমান বা পুষ্টির মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছি না এবং এ সম্পর্কে আমার কোনও সন্দেহ নেই। তবে বাংলাদেশি এবং ভারতীয়রা এই খাবারগুলি খেতে অভ্যস্ত নন এবং অনেকে এগুলি ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছেন।
আমার বেশিরভাগ অভিবাসী ভাই ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপে এই "ডাস্টবিনে খাবারগুলির" ফটো আপলোড করেছেন এবং সে সম্পর্কে অভিযোগ করেছেন।
কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে করা সেই পোস্ট গুলোতে বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে মন্তব্য করেছেন অনেকের মন্তব্য শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণের ইঙ্গিত দেয়। আবার অনেকেই বলছেন সারাবিশ্ব বর্তমানে সংকটে রয়েছে। আপনি ভাবুন আপনাকে যদি এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কিংবা ভারতে থাকতে হয়, প্রতিদিনের দেয়া খাবার গুলো ঝালযুক্ত তরকারি, মাছ ও মসলাদার ঝোলের সংমিশ্রণে খেতে দেয়া হয় আপনি কি হঠাৎই খেতে পারবেন? ২-৩ লোকমা খাওয়ার পর নিশ্চয়ই আর গলা দিয়ে নামবেনা। তখন আপনার হাত লাগানো খাবার গুলো অন্য কেউ এসে খাবে? অবশ্যই ফেলে দিতে হবে। আপনি যতই ক্ষুদার্ত থাকুন না কেন তবে ধীরে ধীরে জীবনের তাগিদে খাওয়ার অভ্যাস হয়ে যাওয়াটাই মানুষের অভ্যাসগত জীবনপ্রবাহের অংশ।
অনেক সময় আমাদের পছন্দ-অপছন্দ সম্পর্কে চিন্তা না করে পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয় এবং জীবনের তাগিদে সময়ের প্রবাহে টিকে থাকতে হয়। কখনও কখনও পছন্দ করার সুযোগ নেই। প্রত্যেকেরই নিজস্ব চিন্তার জগত রয়েছে, অন্যের সাথে তাল মিলিয়ে চলার দরকার নেই তবে আপনার মতামত যদি অন্যের চেয়ে ভাল মনে হয় তবে আপনি তাদের সাথে তর্ক করতে পারেন এক্ষেত্রে তার সাথে আপত্তিকর আচরণ অবশ্যই করবেন না। এটি করার অধিকারও আপনার নেই।
সিঙ্গাপুর একটি বহুজাতিক দেশ যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লোকেরা এসে কাজ করে, জীবিকা নির্বাহ করে এবং প্রচুর সংখ্যক পর্যটক হিসেবে থাকে। তাই এখানে বিভিন্ন ধরণের খাবার রয়েছে, এখানে অনেক জাপানি, ইতালিয়ান, কোরিয়ান, ইন্দোনেশিয়ান, মালয়েশিয়ান এবং অনেক রেস্তোঁরা রয়েছে। তবে সিঙ্গাপুরিয়ানরা প্রায় সব ধরণের খাবার খেতে পারে যা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
তবে অনেক অভিবাসী কর্মী সিঙ্গাপুরে 10 থেকে 12 বছর অতিবাহিত করার পরেও বিভিন্ন ধরণের খাদ্যের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারেননি। আপনি হয়তো প্রশ্ন করবেন এতদিন সিঙ্গাপুরে বসবাস করেও কীভাবে সম্ভব এবং আপনি অবশ্যই ভাবছেন? আশ্চর্যের বিষয় হল, ভোর পাঁচটায় ঘুম থেকে ওঠা, রাত আটটায় কাজ থেকে ফিরে, গোসল করা, কাপড় ধোয়া এবং ঘর পরিষ্কার করা, এই সমস্ত কিছু করতে করতে ঘুমের সময় হয়ে যায়। পরদিন ভোরে আবারও নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।
ছুটির দিনেও কত শ্রমিক ওভার টাইম হিসেবে কাজ করে তার কোনও হিসাব নেই। অনেকেই ভাবেন যদি ওভারটাইম না হয় বা না করতে পারেন তবে তিনি এই মাসের জন্য বাড়তি উপার্জন করতে পারবেন না।
বেশিরভাগ শ্রমিকের ডরমিটরি বা হোস্টেল গুলো প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত। যার ফলে বিভিন্ন খাবারের স্বাদ গ্রহণের জন্য ফুড কোর্টে যাওয়ার সামর্থ রাখেন না। বা অনেকেই অতিরিক্ত ব্যয় থেকে বাঁচতেও রেস্টুরেন্টে গিয়ে ভিন্ন স্বাদের খাবার খান না।
যার ফলে তারা এখানে ১০-২০ থাকলেও এমন খাবারে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারবে না এবং শ্রমিকরা খাপ খাইয়ে নিতে পারে না বলে আপনি মন্তব্য করবেন এমন খাবার খেতে না পারলে তারা তাদের নিজ দেশে ফেরত চলে যাক। শ্রমিকরা যদি পারত তাদের দেশে ফিরে যেতে তাহলে এখানে বাধ্যগত জীবনের সাথে যুদ্ধ করে যেতনা। চিন্তা করেন দেখুন, হঠাৎই এমন খাবারের অভ্যাস বা এসব ভিন্ন খাবারের অভ্যাস বা ভিন্ন স্বাদের খাবারের সাথে খাপ খাওয়ানোর কোন সুযোগ ছিল?
সন্দেহ নেই যে সিঙ্গাপুর সরকার করোনার পরিস্থিতি মোকাবেলায় পর্যাপ্ত উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিটি কর্মীকে মানসম্পন্ন চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। ছাত্রাবাসে থাকার পরেও বেতন নিশ্চিত করা হচ্ছে। আমরা এর জন্য অবশ্যই সিঙ্গাপুর সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। সরকার ছাড়াও অনেক এনজিও এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শ্রমিকদের পক্ষে এসেছেন, তাদের মধ্যে কয়েকটি স্বতন্ত্রভাবে সহায়তাও করছেন। আশা করি, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা খুব শীঘ্রই এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হব।
সিঙ্গাপুরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তারের পরে সরকার সার্কিট ব্রেকার বা লকডাউন করার ঘোষণা দিয়েছে। একই সাথে সরকার ঘোষণা করেছে যে সমস্ত শ্রমিকদের ছাত্রাবাসে থাকার সময় তাদের বেতন দেওয়া হবে এবং তাদের খাবার সরবরাহ করা হবে। এই বিশাল সংখ্যক শ্রমিককে খাবার সরবরাহ করতে গেলে কিছু সমস্যার সৃষ্টি হবে এটাই স্বাভাবিক তবুও সিঙ্গাপুর সরকার এই দিক থেকে সফল। শ্রমিকদের দুঃসময়ে পাশে দাড়িয়েছে, সর্বোচ্চ সহোযোগিতা করছে। তবে মানুষের জীবনযাত্রার সাথে গড়ে ওঠা খাবারের অভ্যাসের পরিবর্তন খুব সহজ বিষয় নয়।
ক্রেডিটঃ
Migrant Workers Singapore Facebook
রিপন চৌধুরী


No comments