মালয়েশিয়াতে চুল কাটার সেলুন দোকান পুনরায় চালুর বিরুদ্ধে তুমুল সমালোচনা জনগণের।

মালয়েশিয়ার সরকার চুলা কাটার সেলুন দোকান, লন্ড্রি, কন্সট্রাকশন, হার্ডওয়্যার দোকান, চশমা দোকানসহ প্রায় ৯টি অতিরিক্ত সেক্টর পুনরায় চালুর বিষয়ে একমত হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে চুল কাটার সেলুন দোকান এই কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে  পুনরায় চালু হওয়ার কারণে তুমুল সমালোচনায় ফেটে পড়েন মালয়েশিয়ার জনগণ।

মালয়েশিয়ার সরকার আবারও ৩য় ধাপে লকডাউনের মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি মাসের ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ঘোষণা করেছে। লকডাউন ঘোষণার আগে মন্ত্রী পরিষদের সিনিয়র মন্ত্রীগণ সহ সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের সাথে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে আবারও ৩ মেয়াদে লকডাউন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল যা গতকাল প্রধানমন্ত্রী তান শ্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন বিশেষ ভাষনে জনগণের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করেন। সিনিয়র মন্ত্রীদের নিয়ে একটি বিশেষ কেবিনেট মিটিংয়ে দেশের অর্থনীতি সচল রাখার প্রয়াসে কিছু শিল্প কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ ৯টি সেক্টর পুনরায়

 চালুর বিষয়ে একমতভন। মালয়েশিয়াতে ৩য় ধাপে লকডাউন বাড়ানোর সময়কালীন কোন কোন সেক্টর পুনরায় চালু হবে সেই বিষয়ে সিনিয়র ও মন্ত্রী পর্যায়ের বিশেষ কেবিনেট মিটিংয়ে গত বুধবার(৮ই এপ্রিল) সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল তবে আজকের ঘোষণার অপেক্ষায় তা প্রকাশ করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর সেলুন দোকান (চুল কাটার দোকান),  কন্সট্রাকশন, অটোমোবাইল সহ মোট ৯টি সেক্টর পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়েছে মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক শিল্প ও বানিজ্য মন্ত্রণালয়। এই বিষয়ে মন্ত্রণালয় বিশেষ বিজ্ঞপ্তি

 প্রকাশ করেছে যা বিভিন গণমাধ্যম ও মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে পোস্ট করে জানানো হয়েছে। তবে চুলা কাটার সেলুন দোকান আবার পুনরায় চালুর বিষয়ে একমত হতে পারেনি মালয়েশিয়ার সাধারণ জনগণ।  চুল কাটার দোকানের মাধ্যমে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ খুব বেশি পরিমানে ছড়াতে পারে বলে মনে করছেন সাধারণ জনগণ কারণ সেলুন দোকানে একই জিনিস বারবার বিভিন্ন মানুষের ক্ষেত্রে ব্যবহার করার হয়। আর সেলুনের বার্বার বা নাপিত যদি নিজেই এই ভাইরাসে বহন করে থাকেন তাহলে আরও বেশি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারেন
বলে মনে করছেন সাধারণ জনগণ।

মালয়েশিয়ার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন কমিউনিটিতে  সবাই নানাভাবে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সমালোচনা ও বাতিল করার পরামর্শ দিয়েছেন। মালয়েশিয়া বার্তা সংস্থা বারনামা টিভি একটি জনসাধারণের মতামত জরিপ করার জন্য ফেসবুকে একটি পোল চালু করেছেন যেখান এখনো পর্যন্ত প্রায় ৮৫% জনগণ চুলা কাটার দোকান পুনরায় চালুর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে না ভোট দিয়েছেন। তবে এই বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে এখনো পর্যন্ত কোন ঘোষণা আসেনি।

No comments

Theme images by Dizzo. Powered by Blogger.