সিঙ্গাপুরে কয়েক হাজার বাংলাদেশীর জীবন ঝুঁকিতে, গাদাগাদি করে থাকার ফলেই ৭৪ বাংলাদেশী আক্রান্ত।

করোনা ভাইরাসে প্রভাবে কাঁপছে পুরো বিশ্ব, সারা বিশ্বের প্রায় ২০০টির বেশি দেশ এই ভাইরাসে আক্রান্ত। এই ভাইরাসের আবির্ভাবের পর থেকে সিঙ্গাপুর যথেষ্ট শক্ত অবস্থানে ছিল যাতে খুব বেশি পরিমানে আক্রান্ত না হয়৷ দেশটির এয়ারপোর্ট ও স্থল পথগুলোতে নেয়া হয়েছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।  কিন্তু তারপরও আটকে রাখা যায়নি। প্রথমদিকে

 ভাইরাস প্রবেশের বেশ কিছুদিন আক্রান্তদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও তা এখন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে বাইরে চলে গেছে। এখনো পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৩৭৫ জন। যার মধ্যে বাংলাদেশী রয়েছেন ৭৪ জন। যেখানে গত (শনিবার) একদিনেই আক্রান্ত হয়েছেন ২৬ জন বাংলাদেশী। বিশ্বের অন্যান্য দেশের শ্রমবাজার গুলোর মধ্যে সিঙ্গাপুর অন্যতম শ্রমবাজার।  কিন্তু সিঙ্গাপুর অন্যান্য বড় বাজার গুলোর চেয়ে অর্থনৈতিকভাবে উন্নত ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন দেশ হিসেবে পরিচিত  হলেও দেশটিতে অবস্থানকারী বেশিরভাগ বিদেশি

 শ্রমিকদের থাকতে হয় অন্তত নিম্নমানের পরিবেশের মধ্যে। গাদাগাদি করে থাকতে হয় একই রুমে ৩০-৪০ জন কর্মীর। দেশটির জীবন যাত্রার মান উন্নত হলেও উন্নত হয়নি শ্রমিকদের ভাগ্য, গণমাধ্যমগুলোতে বারবার শ্রমিকদের দুর্ভোগ নিয়ে বারবার প্রতিবেদন করা হলেও বদলায়নি বাস্তব দৃশ্যপট। বিভিন্ন ডরমিটরি বা শ্রমিক হোস্টেল গুলোর বসবাসের পরিবেশ নূন্যতম বসবাসের যোগ্য নয়। প্রত্যেক শ্রমিক চাইলেও এই করোনা পরিস্থিতিতে নিজেকে আলাদা করে রাখতে পারবে, একজন শ্রমিক

আক্রান্ত হলে সাথে সাথে আরও কয়েকজন আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়, হোস্টেল বা ডরমিটরি গুলো শ্রমিকেরা একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠ বসবাস বা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের ফলে বিপুল পরিমাণে শ্রমিক আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই ২ টি ডরমিটরিতে বসবাসরত প্রায় ২০ হাজার শ্রমিককে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। পংগল S11 ডরমিটরি এবং তুগানের ওয়েস্টলাইট ডরমিটরিতে মোট ৯০ জন করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশ করেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বিশ্লেষণ অনুযায়ী দেখা যায় বসবাসের এমন ব্যবস্থার ফলে প্রায় কয়েক হাজার বাংলাদেশীসহ অন্যান্য দেশের কর্মীদের জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে। মূলত গাদাগাদি পরিবেশে থাকার কারণেই এত এত আক্রান্ত হচ্ছে।


এদিকে শরিফ উদ্দিন নামে এক সিঙ্গাপুর প্রবাসী বাংলাদেশী আক্ষেপ করে তার ফেসবুকে কিছু মন্তব্য তুলে ধরেছেন, নিম্নে তা হুবহু তুলে ধরা হলঃ-

সিঙ্গাপুরে প্রবাসী শ্রমিকরা যদি করোনা ভাইরাসে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হয় তাহলে এর সম্পূর্ন দায়ভার সিঙ্গাপুর সরকারকে নিতে হবে। কারণ শ্রমিকদের মৌলিক চাহিদাগুলো নিয়ে সরকার নিয়োগদাতার সঙ্গে কিছু আইন প্রনয়নের মাধ্যমেই শুধু তা সীমাবদ্ধ রেখেছে। তদারকিতে যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।

আজ করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সরকার শ্রমিকদের সচেতন হতে বলছে। কিন্তু আমি মনে করি সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের জন্য আজ শ্রমিকরা এই ভয়াবহ রুগে আক্রান্ত হতে যাচ্ছে। তাদের সেফ ডিস্টেন্স নিয়ে সরকারের আরো আগে ভাবা উচিত ছিলো।

বিশেষ করে স্বাস্থ সম্মত থাকার জায়গা নিশ্চিত করন, থাকার জায়গা থেকে কাজের জায়গায় নিরাপদে যাতায়াত ব্যাবস্থা নিশ্চিত করন এবং শ্রমিকদের সময়ের মূল্যায়ন নিশ্চিত করন। এই তিনটি ব্যাপারে সরকারের সঠিক তদারকি করা উচিত। কারণ এই ব্যাপারগুলো কোম্পানি সঠিকভাবে মানছেনা। বিশেষ করে যাতায়াত ব্যাবস্থায় সরকার থেকে নির্দিষ্ট আইন না থাকায় কাজ শুরু হওয়ার আগে এবং পরে শ্রমিকদের

 প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘন্টা সময় অপচয় হচ্ছে যা একজন শ্রমিকের কাম্য নয় এবং মালামাল বহনকারী লরিতে শ্রমিকদের যাতায়াতে অনুমতি দেওয়া সরকারের একটি বড় ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত। এখনো সময় আছে জরুরী নোটিশে এই অনিরাপদ লরি বন্ধ ঘোষণা করা হউক। কারণ লক ডাউন শেষ হলে শ্রমিকরা আবারো গাদাগাদি, পাশাপাশি বসে লরিতে চড়বে। আবারো তারা বিভিন্ন রুগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবণা থেকে যাবে।

আমি জানি এই স্বপ্নের শহর গড়ার পিছনে শ্রমিকদের ভূমিকা অপরিসীম। তাই সরকার নিশ্চয়ই আমাদের সমস্যাগুলো বিবেচনা করে দেখবেন।

No comments

Theme images by Dizzo. Powered by Blogger.