আবারও ইমিগ্রেশন কারাগারে আটক বন্দীদের মুক্তি এবং অবৈধদের গ্রেফতার না করার জোরালো আহ্বান।
মালয়েশিয়ার তিনটি ইমিগ্রেশন কারাগারে বিদেশি বন্দীদের মধ্যে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণের প্রভাব তীব্র হওয়ায় দেশটির বিভিন্ন মহলে চলছে নানা রকম আলোচনা এবং সমালোচনা। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন কারাগারগুলোতে শুধু বিদেশি বন্দীরাই আক্রান্ত হয়নি সেই সাথে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা কর্মচারীরাও আক্রান্ত হয়েছে। সুতরাং বলা চলে
ইমিগ্রেশন কারাগারগুলোতে হঠাৎ করোনার প্রকোপে ভিন্ন ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মালয়েশিয়ার মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইমিগ্রেশন কারাগারে বিদেশিদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে অবৈধ অভিবাসী অথবা গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দেয়া উচিত এবং এবং মালয়েশিয়াতে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থানরত আনডকুমেন্টেড বা অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেফতার না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মালয়েশিয়ার অন্যতম মানবাধিকার সংস্থা তেনাগানিতার নির্বাহী পরিচালক গ্লোরিন দাস দাবি করেন যে, ইমিগ্রেশন গুলোতে বন্দীদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য পরীক্ষায়, করোনা স্ক্রিনিং টেস্ট এবং সামাজিক দূরত্বকে কোন ধরনের অগ্রাধিকার দেয়া হয়নি। জেনে রাখা ভালো মালয়েশিয়ার অন্যতম এই মানবাধিকার সংস্থা তেনাগানিতা মালয়েশিয়াতে অবস্থানরত অবৈধ ও বৈধ অভিবাসীদের বিভিন্ন ধরনের অধিকার রক্ষায় সব সময় কাজ করে আসছে।
এই মানবাধিকার সংস্থা প্রধান গ্লোরিন দাস বলেন, মালয়েশিয়ার সরকারকে অবিলম্বে অনিবন্ধিত অভিবাসী শরণার্থী আশ্রয়প্রার্থী এবং রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের গ্রেফতার বন্ধ করতে হবে। দেশের সৃষ্টি হওয়া বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কে অবশ্যই ইমিগ্রেশন বিভাগ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে একযোগে কাজ করা উচিত। তিনি আরো বলেন দেশের সুশীল সমাজের মত স্বতন্ত্র সংস্থাগুলোকে পর্যবেক্ষণ এবং পরিদর্শন করার অনুমতি দেয়া উচিত।
এদিকে মানবাধিকার সংগঠন নর্থ-সাউথ ইনিশিয়েটিভের (এনএসআই) পরিচালক অ্যাড্রিয়ান পেরেরা দাবি করেছেন যে মালয়েশিয়ায় আটক কেন্দ্রগুলোতে বছরের পর বছর বন্দীর উপচে পড়া ভিড় এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অত্যন্ত দূর্বল পর্যায়ে নেমে যাওয়ার বিষয়টি কুখ্যাতি পেয়েছে।
পেরেরা আরো বলেন এই আটক কেন্দ্রগুলোর বিকল্প ব্যবহার করা উচিত কারণ বিশেষত দেশে এখনো উচ্চ ঝুঁকি বিরাজমান। তাই ঝুঁকি সামাল দিতে ভিন্ন ভিন্ন কারাগারের ব্যবস্থা করা উচিত। এক্ষেত্রে নতুন আটকদের আলাদা কারাগারে রাখা যেতে পারে।
মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মহাপরিচালক দাতু ডাঃ নুর হিশাম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেইজে জানিয়েছেন যে, এই ইমিগ্রেশন ক্যাম্প গুলোতে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে কর্তৃপক্ষকে সংক্রমণ বিস্তার ঠেকাতে শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং তাৎক্ষণিকভাবে আক্রান্তদের আলাদা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা অতি দ্রুত করতে হবে।
আক্রান্তদের সাথে সংস্পর্শে আসা সকলকেই যথাযথ কোয়ারেনটাইন ব্যবস্থা এবং অভিবাসী কারাগার গুলোকে পুনরায় নির্মূল করতে হবে। ভাইরাস কোন সীমানা এবং কোন জাতি বা সামাজিক অবস্থানের নয়। এটা যে কোন যায়গায় ছড়াতে পারে।
ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আমাদের সরকার এবং সকল সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গি যেন একসাথে কাজ করে সেই বিষয়ে জোর দিতে হবে। অবশ্যই আটককৃতদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক অনূভুতি ও চিন্তা যেন না হয় এবং এই জীবনগুলো রক্ষার ক্ষেত্রে বৈষম্য যেন সৃষ্টি হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। অর্থাৎ আটককৃত বন্দীদের ক্ষেত্রে বা বিদেশি বৈধ, অবৈধ বা যে কোন জাতির ক্ষেত্রে এই দুর্যোগের সময়ে সমান দৃষ্টি দেয়া উচিত যাতে কেউ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে না পড়ে।
ফেডারেশন অফ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন মালয়েশিয়া (হুয়াজং) বলেছে যে, অভিবাসী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে করোনা টেস্ট এবং একজন আরেকজনের সংস্পর্শের বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া উচিত। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট তানশ্রী গোহ তিয়ান চুয়ান বলেছিলেন যে, এই বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ অভিবাসী কর্মীরা আক্রান্তের দিক দিয়ে উচ্চ ঝুঁকি গোষ্ঠী হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে।
তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিকদের মধ্যে বিশেষত নির্মাণ খাতের কর্মীদের কোভিড -১৯ পরীক্ষা করার জন্য বিদ্যমান ব্যবস্থাটি পর্যালোচনা করে আরও উন্নত করা উচিত।
রবিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেছিলেন যে পরীক্ষার বর্তমান অবস্থান হারে, আনুমানিক দুই মিলিয়ন বা ২০ লক্ষ ডকুমেন্টেড বা বৈধ অভিবাসী শ্রমিকদের পরীক্ষা শেষ হতে আরও ছয় মাস লাগতে পারে এবং যা অর্থনীতিকে পুনরজ্জীবিত করতে সরকারের চলমান প্রয়াসকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্থ করবে।
![]() |
| Photo Source: The star online and Malaysiakini |
ইমিগ্রেশন কারাগারগুলোতে হঠাৎ করোনার প্রকোপে ভিন্ন ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মালয়েশিয়ার মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইমিগ্রেশন কারাগারে বিদেশিদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে অবৈধ অভিবাসী অথবা গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দেয়া উচিত এবং এবং মালয়েশিয়াতে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থানরত আনডকুমেন্টেড বা অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেফতার না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মালয়েশিয়ার অন্যতম মানবাধিকার সংস্থা তেনাগানিতার নির্বাহী পরিচালক গ্লোরিন দাস দাবি করেন যে, ইমিগ্রেশন গুলোতে বন্দীদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য পরীক্ষায়, করোনা স্ক্রিনিং টেস্ট এবং সামাজিক দূরত্বকে কোন ধরনের অগ্রাধিকার দেয়া হয়নি। জেনে রাখা ভালো মালয়েশিয়ার অন্যতম এই মানবাধিকার সংস্থা তেনাগানিতা মালয়েশিয়াতে অবস্থানরত অবৈধ ও বৈধ অভিবাসীদের বিভিন্ন ধরনের অধিকার রক্ষায় সব সময় কাজ করে আসছে।
এই মানবাধিকার সংস্থা প্রধান গ্লোরিন দাস বলেন, মালয়েশিয়ার সরকারকে অবিলম্বে অনিবন্ধিত অভিবাসী শরণার্থী আশ্রয়প্রার্থী এবং রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের গ্রেফতার বন্ধ করতে হবে। দেশের সৃষ্টি হওয়া বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কে অবশ্যই ইমিগ্রেশন বিভাগ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে একযোগে কাজ করা উচিত। তিনি আরো বলেন দেশের সুশীল সমাজের মত স্বতন্ত্র সংস্থাগুলোকে পর্যবেক্ষণ এবং পরিদর্শন করার অনুমতি দেয়া উচিত।
এদিকে মানবাধিকার সংগঠন নর্থ-সাউথ ইনিশিয়েটিভের (এনএসআই) পরিচালক অ্যাড্রিয়ান পেরেরা দাবি করেছেন যে মালয়েশিয়ায় আটক কেন্দ্রগুলোতে বছরের পর বছর বন্দীর উপচে পড়া ভিড় এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অত্যন্ত দূর্বল পর্যায়ে নেমে যাওয়ার বিষয়টি কুখ্যাতি পেয়েছে।
পেরেরা আরো বলেন এই আটক কেন্দ্রগুলোর বিকল্প ব্যবহার করা উচিত কারণ বিশেষত দেশে এখনো উচ্চ ঝুঁকি বিরাজমান। তাই ঝুঁকি সামাল দিতে ভিন্ন ভিন্ন কারাগারের ব্যবস্থা করা উচিত। এক্ষেত্রে নতুন আটকদের আলাদা কারাগারে রাখা যেতে পারে।
মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মহাপরিচালক দাতু ডাঃ নুর হিশাম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেইজে জানিয়েছেন যে, এই ইমিগ্রেশন ক্যাম্প গুলোতে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে কর্তৃপক্ষকে সংক্রমণ বিস্তার ঠেকাতে শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং তাৎক্ষণিকভাবে আক্রান্তদের আলাদা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা অতি দ্রুত করতে হবে।
আক্রান্তদের সাথে সংস্পর্শে আসা সকলকেই যথাযথ কোয়ারেনটাইন ব্যবস্থা এবং অভিবাসী কারাগার গুলোকে পুনরায় নির্মূল করতে হবে। ভাইরাস কোন সীমানা এবং কোন জাতি বা সামাজিক অবস্থানের নয়। এটা যে কোন যায়গায় ছড়াতে পারে।
ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আমাদের সরকার এবং সকল সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গি যেন একসাথে কাজ করে সেই বিষয়ে জোর দিতে হবে। অবশ্যই আটককৃতদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক অনূভুতি ও চিন্তা যেন না হয় এবং এই জীবনগুলো রক্ষার ক্ষেত্রে বৈষম্য যেন সৃষ্টি হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। অর্থাৎ আটককৃত বন্দীদের ক্ষেত্রে বা বিদেশি বৈধ, অবৈধ বা যে কোন জাতির ক্ষেত্রে এই দুর্যোগের সময়ে সমান দৃষ্টি দেয়া উচিত যাতে কেউ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে না পড়ে।
ফেডারেশন অফ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন মালয়েশিয়া (হুয়াজং) বলেছে যে, অভিবাসী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে করোনা টেস্ট এবং একজন আরেকজনের সংস্পর্শের বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া উচিত। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট তানশ্রী গোহ তিয়ান চুয়ান বলেছিলেন যে, এই বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ অভিবাসী কর্মীরা আক্রান্তের দিক দিয়ে উচ্চ ঝুঁকি গোষ্ঠী হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে।
তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিকদের মধ্যে বিশেষত নির্মাণ খাতের কর্মীদের কোভিড -১৯ পরীক্ষা করার জন্য বিদ্যমান ব্যবস্থাটি পর্যালোচনা করে আরও উন্নত করা উচিত।
রবিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেছিলেন যে পরীক্ষার বর্তমান অবস্থান হারে, আনুমানিক দুই মিলিয়ন বা ২০ লক্ষ ডকুমেন্টেড বা বৈধ অভিবাসী শ্রমিকদের পরীক্ষা শেষ হতে আরও ছয় মাস লাগতে পারে এবং যা অর্থনীতিকে পুনরজ্জীবিত করতে সরকারের চলমান প্রয়াসকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্থ করবে।


No comments