মালয়েশিয়াতে বিদেশি শ্রমিকদের অবাধ চলাচলে দুশ্চিন্তায় স্থানীয় নাগরিকরা, করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশংকা।

গত ১৮ই মার্চ থেকে মালয়েশিয়াতে মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার বা গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ আদেশ জারি হয় যা প্রথমে ২য় ধাপে ১ সপ্তাহ বাড়ানো হয় এবং পরে তা আবার ৩ ধাপে বাড়িয়ে ২৮শে এপ্রিল পর্যন্ত টানা দেড় মাস করা হয়। সারাদেশে প্রায় ৯৭% লোক এই মুভমেন্ট কন্ট্রোল আদেশ মেনে চলে ঘরে অবস্থান করছেন। যারা এই আইন অমান্য করছে তাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে৷ তবে মালয়েশিয়াতে লকডাউনে বাংলাদেশীদের অপরাধ খুবই কম থাকলেও গত

১১ই এপ্রিল মালয়েশিয়ার গণমাধ্যম বেরিতা হারিয়ানে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয় যেখানে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশো, নেপালি, ইন্ডিয়ান, মায়ানমারসহ অন্যান্য বিদেশী শ্রমিকেরা বাসার বাইরে রাস্তায় অবাধে চলাফেরা করছেন, ঘুরছেন, আড্ডা দিচ্ছেন। যা দেখে স্থানীয় মালয়েশিয়ান নাগরিকগণ খুবই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এলাকার স্থানীয় মানুষের মনে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ একজন আরেকজনের সংস্পর্শে

 এভাবে আসলে বাইরে চলাফেরা করলে কেউ সুস্থ থাকলেও করোনায় আক্রান্ত হয়ে যেতে পারে। আর এইসব কর্মীরা একজন অসুস্থ হলে আরও ১০ জন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত ১১ই এপ্রিলে বেশ কয়েকজন বিদেশী শ্রমিকদের বাইরে ঘুরাঘুরি করার ছবিগুলো মালয়েশিয়ার বিভিন্ন নিউজ পোর্টালে বেশকিছু ছবি ভাইরাল হয়েছে যা নিয়ে মালয়েশিয়ানদের মাঝে নানা রকম সমালোচনা করতে দেখা গেছে।  এমন পরিস্থিতি ঘর থেকে বের হয়ে এভাবে অবাধে ঘুরাফেরা করার ছবি গুলো

 দেখে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গতকাল বিকেলে মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু জেলার তামান তামান গেম্বিরা এলাকায় বিএইচ-র একটি জরিপে দেখা গেছে যে, কিছু সামাজিক দুরত্ব বজায় না রেখে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে এবং কয়েকজন দোকানের সামনে আড্ডা দিচ্ছে, কেউ রাস্তায় বসে আছে৷ এই পরিস্থিতিতে এমন আচরণ ভাবিয়ে তুলেছে সবাইকে।

 55 বছরের মামান নামে পরিচিত এক বাসিন্দা বেরিতা হারিয়ানকে জানান, 18 মার্চ থেকে এম'সি'ও শুরু হওয়ার পর থেকে তাদের আশেপাশের হাউজিং এলাকা গুলোতে এই ঘটনাগুলো ঘটে আসছে। তিনি আরও জানান এই এলাকায় মাত্র ১৬০০ স্থানীয় জনগণের তুলনায় ৩ হাজারের বেশি  ডরমিটরি বা হোস্টেল গুলোতে পর্যাপ্তের চেয়ে অতিরিক্ত শ্রমিক বসবাস করে। এই এম'সি'ও চলাকালীন এত শ্রমিক একসাথে বসবাস করা ও বাইরে অনাধে ঘুরাফেরা

 চিন্তার বিষয় বলে জানান তিনি। যেখানে আমরা স্থানীয় নাগরিকরা আইন মেনে চলছি, আক্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচতে ঘরেই অবস্থান করছি, সেখানে তারা বিশেষ করে দুপুর ও বিকেল বেলায় একসাথে বের হয়ে জমায়েত সৃষ্টি করে যা এই পরিস্থিতিতে মোটেও কাম্য নয়। স্থানীয় জনগণ তাদের এম'সি'ও মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালাতে আসলেই তারা আবার দৌড়ে পালিয়ে যায়।

আইন নামের আরেকজন প্রতিবেশী বলেন, আমরা লকডাউনে ঘরে অবস্থান করছি, অপরদিকে এইসব বিদেশী কর্মীগণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় বের হচ্ছে, দলবদ্ধ হয়ে আড্ডা দিচ্ছেন, তাদের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক।

কোন কিছুই হয়নি মালয়েশিয়াতে। তাদের এইসব কর্মকাণ্ডে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। এভাবে দলবদ্ধ হয়ে চলাফেরা করলে কোভিড-১৯ এ সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশংকায় আছি আমরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালালে তারা পালিয়ে যায় তখন পরিস্থিতি ২-১ দিন স্বাভাবিক থাকলেও তারা আবার তাদের পুর্বের অভ্যাসে ফিরে আসে।

No comments

Theme images by Dizzo. Powered by Blogger.