মালয়েশিয়ায় আবারও করোনা টেস্ট এর পর গ্রেফতার অভিযান, বাংলাদেশীসহ ১১৩ জন গ্রেফতার

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ (JIM) গতকাল ১৪ই মে মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের সেলায়াং বারু এলাকার আশেপাশের ভবন গুলোতে অভিযান চালিয়ে ১১৩ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতার করেছে। এই অভিযানে মালয়েশিয়ার ২১০ জনে ইমিগ্রেশনের সদস্যদের সাথে মালয়েশিয়ার পুলিশ (PDRM), রেলা (RELA), সশস্ত্র বাহিনী (ATM), মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় (MOH), MKN এবং জেবিপিএম সহ মোট ৩৪৯ জন অংশ নিয়েছিল।


গতকাল সকাল ৯ টা থেকে শুরু হয়ে  সারাদিনভর চলা এই অভিযান মূলত বর্ধিত গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ আদেশের (EMCO) মাধ্যমে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলা রেড জোন চিহ্নিত এই এলাকায় পরিচালনা করা হয় যেখানে অন্যান্য এলাকার মত অবৈধদের গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে আগেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। EMCO চিহ্নিত এলাকায় অভিবাসী কর্মীদের বেশি সংখ্যক বসবাসের তথ্য পাওয়ার পরই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।


বর্তমানে যেখানেই বেশি পরিমাণে আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে সেই এলাকাতেই সেনাবাহিনী মোতায়েন করে কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় তারপর সবাইকে কোভিড-১৯ টেস্ট করার পর অভিযান চালিয়ে অবৈধদের আটক করা হয়।

অভিযানে মোট ১৬৮৩ জনকে যাচাই-বাছাই করে মোট ১১৩ জন আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে  ইন্দোনেশিয়ান ৬৩ জন, ভারতীয় ১৯ জন, বাংলাদেশী ৬ জন, মিয়ানমারের ২২ জন, পাকিস্তানি ২ জন এবং ১ জন নেপালী নাগরিক রয়েছে। তবে আটককৃত সবাই কোভিড-১৯ এর ভাইরাস মুক্ত ছিলেন। মালয়েশিয়ায় প্রবেশের কোন রেকর্ড নেই, ভিসা শেষ হয়ে যাওয়ার পরও দীর্ঘকাল অবস্থান করছেন, ভুয়া পাসপোর্ট বা ভুয়া ভিসা প্রদর্শনসহ অন্যান্য ইমিগ্রেশন পরিপন্থী অপরাধ রয়েছে গ্রেফতারকৃত সকলের মধ্যে।


ইমিগ্রেশন থেকে জানানো হয়েছে যে তাদের সবাইকে অভিবাসী পাচার-চোরাচালান আইন, ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩, পাসপোর্ট আইন ১৯৬৬ এবং ইমিগ্রেশন আইন ১৯৭৩ এর অধীনে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য যে,  এর আগেও কুয়ালালামপুরের বেশ কয়েকটি এলাকাতে EMCO এর অধীনে এই ধরনের বড়সড় অভিযানে  বিপুলসংখ্যক অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। যেসব এলাকায় বিদেশী নাগরিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে সেসব এলাকায় ইমিগ্রেশন বিভাগ থেকে এই যৌথ অভিযানের মাধ্যমে অবৈধদের ছেঁকে বের করে গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে মালয়েশিয়ায় বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে অবৈধদের এভাবে গ্রেফতার করারও সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও স্থানীয় বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠান। তবে সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসমাইল সাবরি ইয়াকুব সাংবাদিকদের এসব অভিযোগের সদুত্তর দিয়েছেন।
তথ্যসূত্রঃ JIM

No comments

Theme images by Dizzo. Powered by Blogger.