মালয়েশিয়ার বাজারগুলোত প্রবাসী শ্রমিকদের বাদ দিয়ে স্থানীয়দের চাকরি দেয়া হবে! আনোয়ার মূসা

মালয়েশিয়ার কাঁচাবাজারগুলোতে অভিবাসী শ্রমিকদের বাদ দিয়ে যদি মালয়েশিয়ান কর্মীদের নিয়োগ করা হয় তাহলে পুরো বাজার ব্যবস্থার উপর এক বিপর্যয়কর পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে মন্তব্য করেছেন এই বাজার শিল্পে বছরের পর বছর ধরে কাজ করা কিছু কর্মী।

তারা বলেছিলেন এসব কাঁচাবাজারে কাজ করতে হলে বিভিন্ন ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সাথে অভ্যস্ত হতে হবে যেমন দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে যাওয়া, বাজে দুর্গন্ধ, নোংরা কাজের পরিবেশ, স্বল্প বেতনে মাসিক বা সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়াই টানা কাজ করা যা স্থানীয় মালয়েশিয়ান নাগরিকেরা বেশিদিন চালিয়ে যেতে পারবেনা কারণ তারা এই ধরনের কর্মক্ষেত্রে অভ্যস্ত নন এবং তারা সামাজিকভাবে তাদের ভাগ্য নিয়ে হতাশায় ভুগেন না।

যেকোনো উপায়ে তাদের কর্মসংস্থান হয়ে যায়, রোজগারের সুযোগ হয়। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের অন্যতম বৃহত্তম কাঁচাবাজার সেলায়াং ও এর আশেপাশের আশে পাশের অঞ্চল ও ভবনগুলোতে অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি পদক্ষেপ নেয়া হয় যে এই বাজারগুলোতে বিদেশি শ্রমিকদের কাজ করতে দেয়া হবে না তার পরিবর্তে স্থানীয় মালয়েশিয়ানদের কাজের ব্যবস্থা করা হবে।

এ বাজারটিতে সরকার যে জিনিসটি সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত করেছে তা হচ্ছে বাজারটিতে ব্যবসাগুলোর বেশিরভাগই বিদেশীদের মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়ে থাকে এবং এই ব্যবসা গুলোর স্থানীয় মালিকগণ শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর বাজারে এসে ভাড়া সংগ্রহ এবং অন্যান্য তদারকি করতেন। তবে কিছু সংখ্যক মন্তব্য করেছেন যে এ বাজারগুলো পরিচালনা করার ক্ষেত্রে স্থানীয় মালয়েশিয়ান নাগরিকগণ উপযুক্ত এবং এবং এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার জন্য কিছু সংখ্যক স্থানীয় মালয়েশিয়ান নাগরিকই দায়ী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশী এক প্রবাসী জানান এই বাজারগুলোতে যদি মালয়েশিয়ানদের কে কাজ করতে দেয়া হয় তাহলে তারা খুব বেশিদিন স্থায়ী হবে না বা তারা এই বাজারগুলোতে খুব বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে না। আমি আমার গত 10 বছরের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী দেখেছি যে মালয়েশিয়ান নাগরিকেরা যখনই বাজারগুলোতে কাজ করতে আসে তখনই তারা খুব বেশিদিন এই বাজারগুলোতে কাজ করে টিকে থাকতে পারে না।

কারণ তাদের জীবন আমাদের মত খুব বেশি সংগ্রামের নয় ও তারা এই ধরনের পরিস্থিতিতে অভ্যস্ত নয়। তারা যখনই নোংরা পরিবেশে কাজগুলো করতে আসবে এবং দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশে মাসের-পর-মাস কোন ছুটি ছাড়াই স্বল্প বেতনে কাজ করতে পারবে না এবং তারা পালিয়ে যাবে।

আমরা বছরে মাত্র 10 দিনের মত ছুটি পাই এবং দেখা গেছে কোন কোন মাসে একদিনও ছুটি পাই না আর যদি একদিন ছুটি পাই তবে ঐদিন আমাদের বস বা মালিক বলবে যে, ঐদিন  দোকান পরিষ্কার করে দিতে কিন্তু এক্ষেত্রে দেখা যায় দোকান পরিষ্কার করতে করতে আমাদের ঐ একদিন ছুটির অর্ধেক দিন কেটে যায়।

এই ধরনের সংগ্রামী জীবন ও তীব্র কষ্টের চাকুরী তারা করতে পারবেনা। আমরা মারাত্মক ভাবে শ্রম দেই এবং টাকাও পাই। কিন্তু এই পরিমাণ শ্রম যদি স্থানীয়রা দিতে আসে তাহলে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করবে যা দোকান মালিকদের পক্ষে বহন করা সম্ভব হয়ে উঠবেনা।

No comments

Theme images by Dizzo. Powered by Blogger.