সেই রায়হান কবিরকে নিয়ে মালয়েশিয়ার সংসদে পাল্টাপাল্টি বিতর্ক, জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বহুল আলোচিত আল জাজিরার প্রতিবেদনে ইমিগ্রেশনের বিরুদ্ধে সাক্ষাৎকার প্রদানকারী মোঃ রায়হান কবিরের কোম্পানি বা নিয়োগকর্তাদের আরও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার নিয়োগদাতা কোম্পানিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুশ্রী হামজা জয়নুদ্দিন বলেছেন, মোঃ রায়হান কবিরকে ২৪ জুলাই পুত্রাজায়ার ইমিগ্রেশনের গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা গ্রেফতার করেছে। আরও তদন্তের জম্য ইমিগ্রেশন আইন ৫১ এর (৫বি) মোতাবেক তাকে রিমান্ডে প্রেরণ করা হয়েছে। মোঃ রায়হান কবিরের ভিসা বাতিল করে তার কোম্পানি মালিককে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ঠা আগস্ট) রয়্যাল এড্রেসে (সংসদ) বিতর্ক চলাকালীন সময়ে অন্য এক এমপি'র প্রশ্নের জবাবে হামজা জায়নুদ্দিন বলেন, তার নিয়োগকর্তার বিষয়ে আরও তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ইমিগ্রেশন আইনের বিরুদ্ধে যাওয়া যেকোনো কোম্পানি মালিক বা বিদেশি কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। বিদেশি কর্মীরা কোন অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক দল ডিএপির আইনপ্রণেতা ও সংসদ সদস্য তেরেসা কোক তখন বাধা দিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, মোঃ রায়হান কবির আল জাজিরার প্রতিবেদনে যে দাবী করেছে তা কেন তদন্ত করা হয়নি। কিন্তু বাস্তবে আজ আমরা জেনেছি কুয়ালালামপুরে আল জাজিরার অফিসে রেইড অভিযান চালানো হয়েছে। এটি কেন হচ্ছে জানতে চাই।
আল জাজিরার একটি প্রতিবেদনে সাক্ষাৎকার দেয়া হয়েছে সে সাক্ষাৎকারে তাদের সাথে কি কি ঘটনা ঘটছে বা ইমিগ্রেশন কেমন আচরণ করছে তা বলেছিলেন এখানে তার ভুল কি ছিল তিনি জিজ্ঞেস করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে।
জবাবে দাতুশ্রী হামজা জায়নুদ্দিন বলেন, এটি ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালকের ইমিগ্রেশন আইনের ৯ নং ধারা অনুযায়ী তার বিচক্ষণতা ছিল।
তেরেসা কোক আবারও বাধা দিয়ে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন না বলেন অভিযোগ করেন যে এই ধরনের পদক্ষেপ ইমিগ্রেশন বিভাগের পাশাপাশি মন্ত্রীরও ভাবমূর্তি নষ্ট করে দিয়েছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার জবাবে বলেন যে তেরেসা কোকের ইমিগ্রেশন আইনগুলো ভালোভাবে চেক করা উচিত। তিনি আরও বলেন, আপনি একবার মন্ত্রী ছিলেন দয়া করে আইনটি দেখুন।
আল জাজিরার ঐ প্রতিবেদনে রায়হান অভিবাসীদের সাথে সরকারের আচরণের মিথ্যা অভিযোগ করেছিলেন এবং আল জাজিরা এই তথ্যচিত্রটি সম্প্রচার করার কারণে তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত করছে মালয়েশিয়ার পুলিশ।



No comments